Sunday, 4 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


অদৃকা ভট্টাচার্য্য এর কবিতা -

আঁধারের রঙিন সঞ্চয়: জীবনের বেহালা

* 
আঁধারের গায়ে খুঁজি মুক্ত দেহ 
হাত পা নাড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় অস্তিত্বের আকাশ

*
শব্দদূষণের গতি বারছে, আমি ও বারছি
তলিয়ে যাচ্ছে মেয়েটির বিরহের আঁধার
ক্রমশ আঁধার কমে আসে, মেয়েটির ও আয়ু কমে
হাত পা‌ ছড়িয়ে দিয়ে - কবর গুলো ধিরে ধিরে
গিলে নেয় মেয়েটিকে, গিলে নেয় বেঁচে থাকার বিরহের আঁধার, বেজে উঠে বেহালা 

*
জোনাকি রঙে পরো জন্ম চাতক হব
জীবন কাটাবো রূপকথাতে বেহালা সুরে
ঘর বাঁধবো, সাজাবো, ভাঙ্গবো, উন্মাদের 
উপাধি নিয়ে চিতায় উঠবো, অসীম শূন্যতায়।



ছবি- মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••


 

Saturday, 3 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


দুরন্ত বিজলী’র কবিতা -


∆
কেউ চলে গেলে

তুমি যদি আগে চলে যাও,আমি অসহায়,
নিজের মৃত্যু কামনা করতে পারি কিছুদিন।
তারপর ধূসর হতে হতে আরও অসহায়।
তোমার ছোঁয়া গা থেকে ঝরে পড়ে,
এবড়ো খেবড়ো মুখে ঠোঁটে চুম্বনের দাগ
মুছে যায়। চোখে অন্ধকার ।
অবশেষে তোমার কাছে চলে যাব।

ইহলোক পরলোকের ঘূর্ণাবর্ত আছে কিনা
জানি না তবে মানতে ভালো লাগে।
আবার দেখা হবে ।

আর যদি মনিকাও এসে যায়
তাহলে?


∆
প্রেম

বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায় শুকনো পাতা।
কেউ যদি...

না না !

কেন চোখে জল ভরে যায়?
কেন মনে হারানোর হাহাকার ?
পরস্পর অদৃশ্য বাঁধনের মুক্ত আলো
নিভে গেলে
অন্ধকার অন্ধকার...

না না না....

বেদনার বেলাভূমে একটি আলো
অমলিন জ্বলে...


∆
বৃষ্টি শব্দহীন আমৃত্যু

প্রেমের কবিতা লিখতে বসলে মনিকা ভেসে ওঠে --
রূপনারায়ণ নদীকূলে হৃদয়ের জল উথলে ওঠে,
আকাশের নীলে মেঘ উদ্ভাসে,
বালুর নিদাঘ উত্তাপ এখন কিছুটা শীতল
চোখ ছলোছল।

কলেজ ক্যাম্পাস কবিতার জন্য
ঘাসে শিশিরে মাখামাখি,
পাশ দিয়ে যাবার সময় ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেদনা
বিছানো বাবলাগাছের তলায় থমকে দাঁড়াই।

ছলোছল বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি বৃষ্টি ,
ভিজছে ভিজছে ...
গাছের শরীর বেয়ে দুঃখ ঝরে পড়ে।

কাঁদবো না বললে কান্না থেমে থাকে নাকি?
বৃষ্টি পড়ে, শিলা বৃষ্টি শব্দহীন আমৃত্যু।


ছবি- মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 2 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


বিকাশ চন্দ এর কবিতা -

∆
রাধা প্রেম হলুদ বসন্ত বুকে 

দু'বাহু জড়ালে বুকে ফেরে হারানিধি আত্মা
মানুষের গায়ের গন্ধে ফোটে পলাশ জারুল
সমস্ত ভাবনারা চেনে শিউলি বকুল শাপলা শালুক
তবুও পূর্ণিমা রাত চমকায় কুঠারের ধারালো ঘায়ে
অন্ধকার ঝাঁঝরা করে আবার মন ফকিরা ঘর
দোয়েল পাপিয়া বৌ কথা কও খোঁজে বসন্ত দুপুর

এপার ওপার বুকের ভেতর জল স্তম্ভের উচ্ছ্বাস 
উদাস শিশির কণা মুক্তা বিন্দু দুধ ধান শীষে
হেমন্ত হিমে ভালোবাসা ভোরের শীতে স্নান
উষ্ণতা ভেতরে স্পর্শ সুখ পরস্পর বেঁধেছে পরাণ
দু'পাশে দীর্ঘ সবুজ প্রাচীর সূর্য সিঁড়ি শোনে স্তব গান
দুধে ভাতে মাছে শাকে বসন্ত বরণী মুখ ডাকে আমন্ত্রণে 

আনন্দ হৃদয়ে কতনা ধ্বনিময় সুর সালংকারা 
দেহ বিনিময় জানে সাঁঝবাতি ভোরের শুকতারা
সবুজ পাখি জানে ওড়া উড়ি হাহাকার শুকনো পাতায়
রাধা প্রেম হলুদ বসন্ত বুকে আবীর কুঙ্কুমে চন্দন ঘ্রাণে


∆
ঋতু পত্রের শেষে

পাঁজরের আড়ালে শ্বাস টুকু ঘিরে আছে দেহকাণ্ড
বাইরে দেশান্তরী হাওয়া খেলে সবুজ পাতার
শরীর জুড়ে হিরন্ময় প্রেম ঢাকা বসন্ত কুয়াশায়
ধর্ম কক্ষে ছেঁড়ে জন্ম সেতু ব্যাথাতুর রক্ত বিসর্জন 
পাষাণ শরীর জানেনা নিরন্তর চলে এ ভাসান
দিনাতিপাত নেই দরজা আগলে অনন্যা সে প্রিয়তমা

জমিতে চুমু রেখে অঙ্কুর বুকে মোহন শরীর লতা
অহরহ সংসারী কথার ভেতর প্রতীক্ষার সকল উচ্চারণ 
শরীরেই বাঁচে শরীরেই মরে তবু শস্যের আমন্ত্রণ 
মন্দ্রিত সময়ে লোহিত অঙ্গীকার জাগে মন্ত্র বলে
বেঁচে থাকে সকল ভবিষ্যৎ জানে আত্মার সম্বল
অনাহুত প্রেম পত্র ভাষায় সবিনয়ে রক্ত করবী 

শরীরে মননে জড়িয়ে জন্মান্তর বৃক্ষদেবীর বাকলে
আত্মার সুরে নিরন্তর বাঁচে বাউল ঋতু পত্রের শেষে 


∆
অনন্ত প্রতিভাসে

দোলের চাঁদে রঙ লেগেছে রাতে কৃষ্ণচূড়া সোহাগ
কাঁপছিল কি কোকিল স্বরে পরাগ ওড়া বাতাস
কথার ভেতর বর্ণমালায় প্রেমের আখর আলো
অভিসারে হলুদ বসন্ত রাধাময় শরীরে আগুন মাখো

অসময় তবু রঙ মাখে মনে বনে পারিজাত পরিমলে
অফুরান কথা ফিরে ফিরে আসে মধু মাখা সঙ্গীতে
প্রতি ঘরের উঠোনে কে কার চরণে ফুলের অঞ্জলি 
বর্ষ শেষের অন্তর কথা মুক্তি স্নানে চলে রঙের অভিসারে

আমার পলাশ রাঙা চোখের দেখা বাউল বৈষ্ণবী পথ
লাল শিমূল রঙের হাসি মাখালো ঠোঁটে বাঁশির সুরে
রঙ ঢেলেছি সুখের ঘরের চেনা উঠোন জুড়ে 
হেসে উঠলো দূর্বা তখন গোলাপি রঙের ভোরে

শ্রীখোল রঙ্গে মজেছে নগর কীর্তন তোলে রসিক বোল
আহা ! শ্রীরাধা সিঁথি রাঙা দোলে কপালে রক্ত প্রবাল
কালবেলা জানে ঋতু স্রোত শেষ বসন্তে বিরহে কানু
চিত চোর জানে বন কুটিরে চন্দ্রিমা অনন্ত প্রতিভাসে

ছবি- বিপ্লব ভূঞ্যা
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••|||••|||••||•|||•••••

Tuesday, 30 January 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-১


দীর্ঘস্বর 


-১. কস্টলি স্লিপওয়াকিং ভারী ডয়টেরিয়ামের কাতিল ঠোঁট ভেঙে নির্মূল করেছে অগ্রজ অন্ধকার ঘোলা জলে পদ্মনাভি হেঁটে যায় খোসা ছাড়ানো পাতিলেবুর বিষ মাখানো আগুনে 


০. মূলত কার্বন মনোক্সাইডের ভেতর রিং থিওরি খাটছে না দেখে আড়াআড়ি পিপাসা হ্যালুসিনশনের কাঁটাতার অর্জন করে ও বহুব্রীহি সমাস ব্যাসবাক্য ভেঙে রায়তা ছড়ায় ক্রমবর্ধমান হারে 


১. এইসব অস্বস্তিকর লেখন তীরন্দাজের চোখ থেকে পঞ্চমুন্ডির আসনে হুহু শীতলতার আশ্রয় আগের পাতায় ঝরিয়ে দেয় এমন গানের বিপরীতে আঁশ ছাড়ানো ঘনমূল এক্সপোনেন্সিয়াল গ্রোথের পরিপূরক আদতে পরম শান্তি বলে কিছু নেই ভেবে নিই যে যার মতো উপঢৌকনে সাজিয়ে...


ছবি- অর্ণব জানা
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••


Monday, 29 January 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-১

উদয় সাহা’র কবিতা -

∆
নিঝুম 

কথায় বাড়ে কথার তীক্ষ্ণ স্বর;
সেতু এখন নীরব মরুভূমি...
বাঁধন নয় ; ভেঙে গেছে ঘর;
পান থেকে চুন খসালে তুমি

পায়ের নুপুর নিঝুম হ'ল মনে,
সাদা পাতায় বিরাট বড়ো স্পেস-
সমগ্রতা নামলো গলির কোণে,
ঠোঁটের মাঝে তোমার চুমুর দেশ...


∆
বৃষ্টির পর 

তুলসীতলায় লুকানো আছে সময়-
নিয়ম করে শোকের গান গাওয়া...
সব মৃত্যু জাগায় না আগ্রহ ;
সুস্থ চোখে ছুটছে রেশম হাওয়া 

চিতা ফুঁড়ে উঠতে তবু হবে,
রুমাল জুড়ে অজস্র নোনা ঘাম;
উড়বে ফানুস, বেপরোয়া সাজঘর,
খুচরো রানে জিতবে তোমার নাম

মাথার কাজ অনেক হ'লো জনাব,
পুরানো চোট টাটকা থাকা ভালো-
রিংটোনে লাফিয়ে বেড়াক হরিণ 
বৃষ্টির পর সন্ধ্যাশহর- 
                      অপূর্ব সে আলো !


∆
অবশ্যম্ভাবী 

হলুদ কোটার আলোয় ডুবে গেলে
বাড়ি ফেরা হয় না আর... 

শরীরে লেগে থাকে নিঝুম দুপুরবেলা 
শীষ দিয়ে শিস বাজায় আমনগ্রাম
ডিঙি নৌকায় বহতা পানকৌড়ি-মন...

তারপর দেখি--
পলাতক-তুলো-মেঘদের পথে, 
নিড়নো মাঠে ঈশ্বর লেখে গোধূলির ভাষা 


ছবি- অর্ণব জানা
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Sunday, 28 January 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-১
লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল এর কবিতা -

∆ 
দিতির জলকণা খুঁজি
 
বিচ্ছিন্ন পাখির পালকের মতো সাদা ফুলের দিকে তাকিয়ে আমারই শরীর পুড়ে যাচ্ছে আদিম অনার্যে, কোদালের বাঁটে লেগে থাকে মাটি – কোনো পরাজয় নেই ; আকাশ জুড়ে পার্থেনিয়াম, সেখানে পুঁতে রাখছে আঁধার, হয়তো সব নিষিদ্ধে ভাত ফোটার রংটুকু সারা পথ জুড়ে, কিছু কান্না ভাসে অজীর্ণ অপুষ্টিতে ; এত মায়ামেঘ, নাবাল ঠেলে ওঠে যায় সাপ সাপ দুপুর – কারা যেন দামনের সাথে গোলমাল চায়  

ধূসরতার কোনো মানে নেই ছায়ারোদে, অর্থহীন হলুদ ভেঙে যাচ্ছে বিজ্ঞাপন বিরতির পর – তাকে খুঁজতে বেরিয়ে যায় নিটোল বাদামি স্ত্রী ও সন্তানেরা ; মাছ ভাজার গন্ধ আসে আর জং বাজে মার্টগার্ডে, তারপর তন্ন তন্ন করে আমি দিতির জলকণা খুঁজি 

ধর্মপোতার কাছে ভাঙা ইটের টুকরোগুলো মৃত্যু পিপাসায় সম্ভোগ সারে – 


∆ 
কাঁপতে থাকে জলতল 

বর্ষা হওয়ার কথা ছিল না আজ ; বেঁচে থাকার একটা প্রহর পর্যন্ত শুধুমাত্র, আমরা দেখতে পাচ্ছি নাগরদিঘিটি একে একে অধিকার করে জমিন, মাথার উপর ভেসে বেড়াচ্ছে উদভ্রান্ত জঙ্গল বিষয়ক মেঘ – আলপথের ধারে গজিয়ে ওঠা অস্থাবরে ভাঙা ডালপালার ন্যাতানো কোটি, আমি কাদা ছেটানো হাত পা নিয়ে সাদাসিধে – ভেজা বিড়িতে আগুন লাগাই ; ভেঙ্গে যাওয়া আর হাতড়ানো শ্বাসের টানে কাঁপতে থাকে জলতল 

এসব অসামান্য আয়ুতে শেওলার উপর রোদ পড়ে – আর পরস্পরকে দেখতে থাকি আমি ও দামন 

মৃগনাভি দিতির ঝিঙে ফুল ফোটানো সামনের সবুজ বাড়িটি তার মধ্যবিত্ত নিয়ে জলাশয়ে শালুক ফোটায় 

∆
বিশল্যকরণী ঝোপের পাশে 

এক একটা আকাশ থেকে আশ্চর্য রকম বাজ পড়ে, তখন বিশল্যকরণী ঝোপের পাশ দিয়ে ক্ষীণ কোমরের রমনীটি এগিয়ে যায় পাড়ার শেষ সীমায়, তখনও ইচ্ছের ভিতর ময়ূরীর পালক, সেখানে ধান ঝাড়াইয়ের পর দমবন্ধ বুকে জমে থাকে খড়কুটো – বাতাসের আঘাত চায় অথবা হাড়জিরে আত্মা নিয়ে উষ্ণ কাতর হয়ে পড়ে; ঠিক কতখানি ফসল জমতে পারে বাঁধের কিনারায় 

কয়েকটা খয়েরি বিন্দুর রেখায় নুনের যন্ত্রণা থেকে সে তথ্য জানা যায় না – সাবড়া আর শিরীষ গাছ ছায়া দানে আড়ষ্ট হলেও আবারও দমকা বাতাস আসে – উড়ে যায় দুপুরের তেজ : তেষ্টা বাড়তে বাড়তে দীর্ঘতায় জমাট বাঁধে আলুথালু পুরুষ  

এই সরলতার জন্য তুমি কি খুন করতে পারো দিতি


অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 1 December 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৯



সুপ্রভাত মেট্যা’র কবিতা-


∆
সেও, আমার অশ্রু


এতদিনে প্রায় তুমি কবিতা হয়ে গেছো।

মেয়েদের দুপুর দেখে বড় হয়ে উঠি আমি, এইখানে।
এইখানে ভরে ওঠে আমার শ্রাবণ পুকুর।
তখন হৃদয়ে নোঙর ফেলে তোমার ছায়াটি এসে কাছে,
ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে, চুপচাপ।
আমি বলি এসো, বসো ওই কাঠের চেয়ারটি নিয়ে
আমার বুকের খাঁচায়, নিরিবিলি।
সে আড়চোখে দেখে। তাকিয়ে,'আজ আসছি' বলে,
হৃদয় ছুটিয়ে চলে যায় কোলকাতা শহরের দিকে কোথাও।

সেখানে রাতের ভালোবাসা আলোকরে বসে থাকে সে,
গল্প করে। আর সেই আলোর শ্রম দিয়ে গড়ে ওঠে তার নরম শরীর।
অ্যাতো অন্ধকার; তবু সে চকচকে, সাদা ধবধবে হয়ে ওঠে ক্রমশ,
চমকবাহী হয়ে ওঠে। তবে কী আলো হতে গিয়ে,
আবার সে শরীর হারাবে কোথাও!

তোমার চন্দ্রবেলা বেরিয়ে আসে চক্ষুজুড়ে, দেখি,
প্রচার মেঘের সামনে এসে তোমার কলঙ্ক ঝরে,অশ্রু ঝরে......
সেও, আমার অশ্রু......আমার অশ্রু......


∆
কথা সমগ্র 


আলো থেকে পাতার সংসার সরে গেলে
দু'চোখে অন্ধকার নামে।
দুঃখ বড় 
গাঢ় শ্রাবণ হে মুগ্ধ পাঠিকা;
যা কষ্ট দেয়, ভাসিয়ে নিয়ে গিয়ে তোমাকে ডুবিয়ে দেয়,
                               তোমার আক্ষরিক জীবন।

অত কবিতা লেখার দৌড়াদৌড়িতে গিয়ে কি হবে?
তার চেয়ে বরং নিদ্রা খোলো, শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখো,
স্বপ্ন দেখা কী যে আনন্দের কী বলব তোমাকে!

তবু কী মন সে চায়?
তাই প্রথম প্রথম, তোমাকেই তুলি, নাড়া দিই,
আমার কলেজ ফেরত দুপুরের কথা বলি,
আগামী কাব্যের সাফল্যের কথা।
বসে থাকি, অসময়ের ভাবনাগুলির গায়ে 
রঙিন জামা-কাপড় জড়িয়ে চুপচাপ।
দেখি, আমার সমস্ত কথাগুলির নীচে,
বাড়ি থেকে সামান্য দূরে, ধান ঝাড়ার পাটায়
কবিতা তার ডালপালা ছড়িয়ে বসে আছে।
আর বলছে:
                আহা নড়বড়ে হৃদয় তোমার ;
                সারাই করো গো, এসে সারাই করো!



∆
প্রাক কথন


সকালের খুশি 
দুপুর অবধি গড়িয়ে সঙ্গ নিয়েছে আমার।
তোমার মনের সঙ্গে আজ বিকেল-ধুলো উড়িয়ে
ঘুরে এলাম আবার।

"এই সর্দি-জ্বরের ঠাণ্ডায় তুমি নেমোনা রাস্তায়।"
বলেছিলে একদিন।
বলেছিলে, "সাবধানে থেকো, ভালো থেকো।"
হ্যাঁ, সে-কথা ভুলিনি আমি।
তুমি যখন আসতেনা, আমিও তখন
না আসার কারন নিয়ে হাজির হতাম, তোমার বাড়ি।
হাজার প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতাম।

তুমি চুপটি করে বসে সব শুনতে।
আর মৃদু হেসে বলতে, "নতুন দম্পতি রাত্রি দেখার জন্য 
যেভাবে ব্যস্ত হয়ে ওঠে, তেমনটি হয়োনা লক্ষ্মীটি।"
আমি বলতাম, "নিশ্চয়ই কেউ আশ্চর্য হয়েছে দেখে,
তানাহলে এত ঐশ্বর্য কিসের তোমার, এত অলঙ্কার,
আয়নাখুশির ঝিলিক কিসের এত তোমার চোখে-মুখে,
অ্যাঁ?" তুমি দুধেল হেসে,
আমার হৃদয়ে একটা টোকা মেরে
বলে উঠতে, "সে তুমি, তুমি।"

অলংকরণ- ঋতুপর্ণা খাটুয়া‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••