Tuesday, 12 July 2022
কবিতা
কবিতা
১.
• বর্ষালিপি •
কোথাও বৃষ্টি পড়ছে
কোথাও কদম গাছ ভিজছে একা দাঁড়িয়ে।
গত জন্মের ওপার থেকে
ধূসর নিবিড়তায় ব্যথারা কান্না করছে
মেঘ-পৃথিবী জুড়ে নিদারুণ মেদুরতা
মানবীহৃদয় নিয়ে শ্রীরাধিকা হাঁটছেন
সিক্ত বসন থেকে টুপটাপ জল
অলকাপুরীর দিকে চলে যায়
কানাইয়ের দেখা নেই
যমুনার পাড় ঘিরে শূন্য নূপুরের ধ্বনি
ছায়াচ্ছন্ন চরাচর বৃষ্টিবিগলিত পড়ে আছে।
আমাদের আক্রান্ত পৃথিবী
তবুও বর্ষালিপি লিখে রাখে মেঘেদের গায়ে…
২.
• শ্রাবণশ্লোক •
শ্রাবণের বৃষ্টিধারায় অক্ষরেরা ভিজে কাক।
আমার সমূহ বিষাদ জড়ো হল দরজায়
অভ্যন্তরে ঘন মেঘ, বজ্রগর্ভ অভিমান জমে
তুমুল কলহ নিয়ে দুইটি চড়ুই
রামগিরি পর্বতের দিকে ডানা মেলে দিল
ঘাড় নিচু করে কালিদাস বর্ষার শ্লোক লিখছেন।
হতভম্ভ আমি চেয়ে দেখি শ্রাবণ-সরস্বতী, এইমাত্র
ভিজেকাপড় থেকে যাবতীয় শ্লোক নিঙড়ে নিলেন।
৩.
• পুনরায় মেঘমল্লার •
বৃষ্টিবিঘ্নিত বেলা, জলস্তর উঠে আসে
আকুল উঠোন
মেঘমল্লার বাজেনি কোথাও…
বিষাদরাগিনী বাজছে মহল্লা মহল্লায়
পাড়ায় পাড়ায়
অনিকেত ভয় নিয়ে ন্যুব্জ সময়ের ঘেরাটোপ
ওই দেখো শূন্য চেয়ে আছে
মাস্ক পরিহিত সুস্থতা কিছুটা দাঁড়িয়েছে ঠায়
অবিরল জলধারায় আরোগ্য ভাসছে
কাগজের নৌকো নিয়ে খেলছে না শিশু
যাপিত জীবনের চিত্রকল্প অদৃশ্য মিহিসুতোয়
কাটাকুটি খেলা…
হে সময়গ্রন্থি, উচাটন দূর করে পুনরায়
জীবনের মেঘমল্লার বাজাও আনন্দে!
ছবি:- মেহবুব গায়েন
......................................................................
কবিতা
Sunday, 28 November 2021
কবিতা
১.
∆মুকুল ∆
বহু বছর ধরে
কঞ্চির ওড়নায় লেগে আছে একঘেয়েমি সুতোর অভাব।
পাশের ভাঁজে মাপ বেড়েছে
কুমড়ো –রসুনের অন্তর্গতসুখ
দরজার গুঁড়ি তেজপাতা পিচ্ছিল আবরণযুক্ত পুষ্প।
ঢোলালেবুর মতো উজাড় ঠোঁট এবং পিঠ।
পাঁচিলের নক্ষত্রে প্লাবিত হয় কব্জা
ছায়াগুলো উপযুক্ত কাঠামো
পাখির জীবন ঘাসে পেয়ে।
২.
∆ সেমাই ∆
অবশ্য –মানুষ মজুদ রাখে চেয়ার।
গোধূলির শাকপাতা ভাঙা শরীর
সাইকেল খাটুনি খাটে মাচা পোক্ত করার জন্য।
বাড়ির বিছানায় সোজাসুজি ঘোড়ার শ্লোক
হাওয়ারখরগোশ নাচে শীতনদীতে
সুকোমল টমেটোউরু জড়ীভূত ঐ বারান্দায়।
হাতুড়িস্বার্থ নোঙর ফেলে মাছ পদধ্বনিতে
কম্বলের কুয়াশায় ভিজে যায়
মুগডালের চুল।
৩.
∆ তালা-চাবি ∆
নিজের জায়গা ছেড়ে গেলাম ভাত –মাড়ের কাছে
জেনে নিতে পরিচয়।
অথচ
সে আমার থেকে দুঃখী
লকলকে দুঃখ তার
হৃদয়ের কানায় কানায় ভরে ওঠে গৃহস্থালি কাস্তে।
দারুণ ঘুম ভাসা ক্লান্তি।
মাটির ঝিক
চেলাকাঠের টক দই
দম নেওয়া লাটিম
বৃষ্টির তোলায় জ্বালে আলো।
৪.
∆ দুপুরের নূপুর ∆
কোনো বন্ধনে –চিরো বসন্ত থাকে না।
৫.
∆ উৎসবের ফুলদানি ∆
রাতের কলসিবোতাম
শিমপীড়ন বেয়ে নেমে আসে।
অন্ধকার বালির চাকা শহরে ঢুকে যায়
অলিগলি এবং চতুর্দিকে শূন্যফুলের আড়ৎ
সমস্ত গন্ধ বাদুড়ের খেপলা দুচোখের মতো।
ভীষণ
এ
পৃথিবী
বড়ই ছোটো এই বুকের তুলনায়।
জনপথ
দোকান
সুরের ধারা
ও পিচিয়ে রাখা ঝিনুক।