Friday, 6 October 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৫

সন্তোষ চক্রবর্তী’র কবিতা -

∆∆
এসো আয়ুষ্কাল 



১.
বাংলা কবিতা নিয়ে ভ্রূক্ষেপহীন রাজা মেজাজেই লিখি,বর্ষা এসেছে
রাঢ় দেশে আর আবার তুলেছি পেখম ময়ূরের মতো অভাব ও
অসুখ ভুলে আলোর বলয়ে নেচে!কতদিন কতদূর আজ
কোমল তরু আছো মন আলো করে কার?আমরাও বিপরীতে
জাগতিক সমস্ত কিছু থেকে দূরে অমলিন রুক্ষতা আবার!শুধু গান
আর গানে মেতে জন্ম মৃত্যুর মাঝে কিন্নর সহজ এই বোধে
বুঁদ হয়ে অশ্রুকাতর এমন কাঙাল বর্ষাদেশে নির্বোধ ভাবি
জয় করে যাবো অহংকারী বাংলা অভিধান আপন দীনতায়!

২. 
মায়ালোকে এই আমার সমর্পণ।চতুরতা ও ছলনাহীন সহজ
এখন কবিতা কবিতা ভাবনা থেকে সরে আসি। পথের ক্লান্তি মিলিয়ে যায় পথে
সুন্দরীর হাসিমুখ। লোকজন উড়ে বেড়ায় পাখির মতো!
ভিড়ে ঠাসা দূরপাল্লা আলো আঁধারি বাস, তুমি জানো
হাজার কথাকে পাশ কাটিয়ে সমস্ত পথ ভেবেছি ঐ মেয়েটির মুখই!
তবুও কি আছে বাংলা গানে!প্রাক সন্ধ্যার মায়ায়!শেষ হতে চলল
একুশ শতক!এখনই হতে পারে যা কিছু!লাফ দেবো দারিদ্রতা থেকে
ঘুরে বেড়াবো পুরুলিয়া!সন্ধ্যা প্রদীপের মতো মেয়েটির মুখ!

৩. 

অধিভৌতিক জগৎ থেকে নির্বাসনে আরও কিছুদিন।
কিছুই দিলে না স্পর্শ ছাড়া!রমণীয় ফুলের সুবাস!
এখনও পথে পথে যে কোন সুবাসে প্রথমে
তোমার কথা মনে আসে। আয়ু থেকে চূর্ণ আয়ুর মাঝে
লিখি তা প্রাণ প্রতিষ্ঠায় যদি মরে যাই এই বোধে!
সাবেকি সকল সফল মূহুর্ত শুধুই কি তোমার!
এই গাঁ নামগানে মেতে তো পরক্ষনে নৈঃশব্দ উজাড় ওতে!
চণ্ডাল বিভা ভুলে কাঙাল পনায় দেখি ধরণী আমার
শুষে নেয় জল। অন্তর্গত কিরণ। দীনতায় মেতে উঠে!

অলংকরণ- সুধাংশু বাগ
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 5 October 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৫

শীর্ষা’র কবিতা -

∆∆
অথ যাত্রাকথা

|
অত্যন্ত আশ্চর্যের ভিড়ে মানুষ হারিয়ে যায়। ভুলে যায় নিজের পরিচিতি। গন্তব্য। দিশা। এযাবৎ করে যাওয়া সংগ্রাম। আশ্চর্য মানুষকে শক্তি প্রদর্শন করে। তার হাতে তলোয়ার। চোখে রুদ্র। শরীরে অগ্নি। যেন আস্ত দাবানল গ্রাস করতে করতে এগিয়ে আসছে মানুষের যত বেদনাগাছকে। ছিন্ন করছে মায়ের জরায়ু। তার শাবকদের থেকে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় মণিকর্ণিকা হয়ে উঠছে মানুষের পরিচিতি। গন্তব্য। দিশা। অত্যন্ত এক আশ্চর্যের তলোয়ারে জবাই হচ্ছে মানুষের নিজস্ব যাত্রাটি।

||
আশ্চর্যের চোখ নেই। মুখ নেই। কান নেই। তবুও সবই আছে। তার অদৃশ্য পঞ্চেন্দ্রিয় দিয়ে সে জব্দ করে রেখেছে মানুষের স্বপ্নকে। উদ্দেশ্যকে। মানুষ যত ভবিষ্যতের দিকে যাত্রা করার কথা ভাবে, এক আশ্চর্যের বিদ্যুচ্চমক তাকে পিছনের পথ দেখায়। যে পথের শেষে সারি সারি সাজানো রয়েছে শোকের দোকান। বিষাদের মেলা। মানুষ যত আলোর দিকে যাত্রা করার কথা ভাবে, মেঘনাদের মতো এক আশ্চর্যের ঝঞ্ঝা তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়, তাকে আটকে দেয় বিষণ্ণ ঘড়ির কাঁটায়। মুখ-কান-চোখ না-থাকা সত্ত্বেও পরম শক্তিশালী ইন্দ্রিয়সম্পন্ন অলৌকিক এভাবেই জিতে যায় বারবার। তার পায়ের কাছে পড়ে থাকে মানুষের মরা নখ, হারানো অশ্রুর বীজ।

অলংকরণ- সুধাংশু বাগ
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••



Saturday, 30 September 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৪


রোদ্দুর রিফাত এর কবিতা -

∆∆
মদের গ্লাসে তোমার আয়ু অতিশয় সামান্য 


সিগারেটের মাথায় নিজের ফুসফুস জ্বলছে। এস্ট্রে ভরে উঠছে নিজের ছাইয়ে। কেমন ধূসর ধূসর রঙে ছড়িয়ে যাচ্ছে আত্মা এদিকে-ওদিকে। ভেতরের মহানগরে প্রেমের তুমুল তোলপাড়। তবুও বালিশের পাশে নিজেকে মনে হয় একাকি এক মানুষ।

নিসঙ্গতার তরল লাল মদের রূপে গভীর হয়ে উঠে রাতের কোলে তবুও মদের গ্লাসে তোমার আয়ু অতিশয় সামান্য। মাংস ও চানাচুরের বাটিতে উঠে আসো তুমি। অতঃপর যখনি মাংস ও চানাচুর চিবুতে থাকি তখন মনে হয় এখন বোধহয় নিজেকেই চিবুচ্ছি।


∆∆
হারানোর ভয়

ফিরে এসো বসন্ত বনে—যেখানে ফুল ফোটছে তোমার বুকের তাপমাত্রা ডিঙিয়ে—যেখানে পাতার শরীরে তোমার নামের জিকির—সমস্ত কিছুর ভালো সম্ভাবনা ও না হারানোর ভয়। মানুষ তো হারিয়ে ই কাঁদে—এই হারানোর ভয়টুকু যদি কাটিয়ে দিতে পারি তোমাকে, তাহলে আর কি চাও? এর বাহিরে কি কিছু চাওয়ায় থাকে? 


∆∆
আমি আবারো প্রেমে পড়েছি


তবু প্রেম আসে বাসিয়া নদীটির পাশে 
স্কুলফেরা বালিকার এলোমেলো চুলে—রাজনগর রোডে...
কেমন বিকেল বেলা গড়িয়ে যায় রঙ চায়ের পেয়ালার তলে—

তবুও প্রেম আসে কিশোরী মেয়েটির খয়েরি স্কুলড্রেসে—
তার দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার স্টেশনের পাশে

সিগারেট পুড়ে হাতে—ঠান্ডা হয়ে আসে চা 
তখন আমি বিবস তার এলোমেলো চুলে—চোখের নজরে...
কেমন অপলক তার চাহনী, ধবধবে দাঁতে রেখেছে আয়নায় কায়া

আমি ডিঙাতে পারি না তার ছায়া—
সন্ধ্যা তবুও দিচ্ছে ইশারা...

কেমন যেন ভেঙে গুড়ো হয়ে যাচ্ছি তার ছায়ার ভিতর—

আমি আবারো প্রেমে পড়েছি কিশোরীর চিবুকের নিচের
গভীর ছায়ায়—যেখানে ঘুমাবো জীবনের সমস্ত রজনী।


অলংকরণ - নিশিপদ্য
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 29 September 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৪


শ্রেয়সী চট্টোপাধ্যায় এর কবিতা -

∆∆
লবণহ্রদ কিম্বা ক্ষত 

ভালো যে আছি এমন কিছু নয় অথচ খারাপ বলতেও পারছি না ।  
এমতবস্থায় একটু বেশি জল পান করলে শরীর হালকা হয় - একে একে বেরিয়ে যায় 
ক্ষোভ -ক্ষতি - ক্ষতের ঘন তরল । শারীরিক সৌন্দর্যের জমা দাগ মিশে গিয়ে এঁটো হয়ে যায় 
আমায় পবিত্র করে যাও কিম্বা নষ্ট করতে হলে সাথে নিয়ে নাও  
অথচ এরকম শান্তিপূর্ণতা কখনোই কাম্য ছিল না 
যে যায় সে দীর্ঘ গেলে - চলা থেমে যায় 
চলে যেতে হয় বলেই হয়ত ফিরে আসা 
কিম্বা হয়ত ফেরা না চাওয়ায় - যেতে বলা 
এত জটিল তো কিছুই কোথাও ছিল না 
নিতান্তই সরল বলেও যে কিছু হয় না তাও জানা 
অথচ রোজ দেখছি তুমি যেখানে আছো সেখানে গেলে তুমি আমার জায়গায় চলে আসছো 
বলা ভালো একটি লবণহ্রদে তুমি ভেসে যাচ্ছো কিম্বা দূরে... অথবা এসব কিছুই না!


∆∆
 মেহগনি সহযোগে 

প্রত্যাখান নেওয়ার মতো ক্ষমতা এসে গেলে আমরা বড়ো হয়ে যাই। কান্না একটি ছোঁয়াচে রোগ - দরদের চেয়ে ঢের গুণ বেশি! তো যা বলার - একটি পোষ্য কান্না। প্রভুর কাছে জিরিয়ে নিতে চায় এবং 
আরেকটু চায় নরম হতে। এই অঝোরে বর্ষা দেখার সৌভাগ্য ময়ূর জীবনকে আমি ঈর্ষা করি। মানুষের সংস্পর্শে এলে বর্ষা বাড়ে কিম্বা জলতল। লেখা ছড়িয়ে আসছে, আরও ছিটিয়ে থাকছে ধারালো আঘাত - পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা এবং বন্ধুর গ্রেফতারী পরোয়ানা। 

তো যা বলা হয়েও হল না - তোমার বোঝা উচিৎ, কেন একমাত্র তুমি বললেই নৈঃশব্দ্য আসে  
সেদ্ধ মগজ ঠান্ডা হয়ে বিস্তারিত দিনলিপি গুছিয়ে রাখি

আসলে যা বলার,ক্রমশ যা বোঝা হয়ে উঠছে -
আমার সমস্যাটা কী? 
কেন এত রাগ হয়? 
কেনই বা এত গা জ্বলে? 
এত ভাবিই বা কেন?

এখন যেমন, একটি বলিরেখা বরাবর সমস্ত সরল শিশুসুলভ আলো এনে রাখে - সমস্ত জটিল বর্গীয় চিরহরিৎ জীবন আরেকটু বেশিদিন আটকে থাকুক - 
মেহগনি আঠার সহযোগে সেগুনের বাকল...  
শিলিগুড়ির একটিমাত্র অমলতাস আমার চেনা - যে দেখিয়েছিলো তার শীতঘুম পর্ব উদযাপন হয়। আমার কাছে একটি রাধাচূড়া এবং জারুল গাছ আছে। এসব চেনা গাছ ক্রমশ মিশে যায় অমলতাসের সাথে।
একেকটা জড়ুল পৃথক করে দিচ্ছে সকলকে - দাগ সংযোগে তৈরি হয় একটি পবিত্র জন্ম। এসো এবার একটি নিজস্ব সংজ্ঞা নিরূপণে বসি - কিম্বা একটি জন্মবৃত্তান্ত...


∆∆
চাতক-জন্ম 

বহুদিন লেখা হচ্ছে না! বলা ভালো বহুদিন লিখতে পারছি না... 
তো যা বলার ছিলো - একটি বাড়ি! যাবো একদিন যেখানে অথবা যেখান থেকে বাধ্য হয়ে এসেছি তাদের কথা। আমি যে বাবাকে ভালোবাসি না তা নয় কিম্বা আমি যে মায়ের কষ্ট দূর করতে চাইনা এমনটাও নয়। বখে যাওয়া ছোটো একজনকে বোঝাতে চাইছি না এমন কিছুও নয়! এসবের জন্য আমাকে ছুটতে হবে। ক্রমশ এসো সচন্দনে ফুল বেল কাটা ছিটিয়ে দিচ্ছি । কুঞ্জে কুঞ্জে কুউহু করে আঁকড়ে ধরতে চাইছে স্বর্ণলতার মতো কেউ একজন। পেলব হলদে বর্ণের খানিক ঝিমিয়ে থাকা একটা কান্ড দেখছি - পাতলা পাতলা শিরা ছড়িয়ে আছে একেকটি পাতা জুড়ে। এরম কারুকার্য না জানি কোন সুদূর দেশের বানানো। একটি গেরুয়া পরিধান করা জীব আবির্ভূত হয়ে কতটা সন্ন্যাসী হতে পারে? অথবা আমাদের পাতি বসনে ত্যাগ কতটা ? 
এই যে দেখছি যাদের তাদেরকে তাড়াচ্ছিই বা কেন! অথবা যাদের তাড়াতে চাইছি তাদের রাখতে পারলাম না কেন?  
এরকম রাতের ভয় বহুদিন পর আসছে! লেখার মতো। এ মুহূর্তে আমার কাছে একজনের থাকা, এই চাওয়াটা আসছে। পরিবার ভীষণ ছোটো একটা কথা তাও দেখুন কীভাবে ভয় এবং জয়ে তাদেরকে খুঁজে বেরোলাম! কোথাও কেউ নেই। অথবা আমিই থাকতে পারিনি। তো যা বলার, বলাটুকু হলো - "সবাই তখন কইবে কথা তুমি রবে নিরুত্তর"- উত্তরে নীরবতা ভাঙে না নিরবতা উত্তর হয়? এ শহরে সবাই কথা বলছে, সবার আওয়াজও হচ্ছে তবুও ক্রমশ এই শহর স্তব্ধ হয়ে আছে। একটিমাত্র কিম্বা গুটিকয়েক আওয়াজের অভাবে কান তীর্থের কাক হয়ে আসছে। এ চাতক-জন্ম বড়োই করুণ! চিল-শকুন গন্ধ গা গুলিয়ে দিচ্ছে 
আমিই বা শালা কতটা নিচ্ছি নিজে??


অলংকরণ - সুধাংশু বাগ
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 28 September 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৪


 প্রসেনজিত রায় এর কবিতা -


∆∆
পাহাড় এবং তুমি


বোকার মতো পাহাড় দেখে খুশি হই 
মনে হয়,
এই বুঝি ছুঁয়ে ফেলছি ঝরণার জল, কাঠের দোতালা, নির্জন টং ঘর, 
প্রেমিক-প্রেমিকার একান্ত পাইন বন, অথবা তোমাকে...

পাতার ফাঁকে দুর্লভ সূর্যাস্ত দেখে হাসতে থাকি 
হাসতে হাসতে ঠকে যাই, ঠকে গেলেও 
আমার অবৈধ উচ্চারণের একমাত্র সঙ্গী তুমি 

আমার ছোঁয়া হয় না কিছুই!

রাস্তার সব ধুলো চোখে মুখে নিয়ে বাড়ি ফিরি
বুকের ভেতর ভাঙতে থাকে পাহাড়ি নদী, বনফুল 
চোখ লাল হয়ে আসে। মা বুঝতে পারেন, আবার নেশা করেছি। 

মায়ের চোখের ফাঁকি দিয়ে কী করে তোমায় দেখি বলো তো?


∆∆
মৃত্যু


একটা মৃত্যু ফড়ফড় করে দেহ ছেড়ে উড়ে যায় 
কেউ জনে না, কোথায় যায়?
একটা মৃত্যু মানুষের ভিতেরেই মরতে থাকে রোজ

নিকোনো উঠোন ছেড়ে বেরিয়ে যেতে যেতেই মনে হয় 
যেন ফিরে আসি 
অথচ, যদি ফিরে না ফিরি, আটকে পড়ি কোথাও 
তুমুল বৃষ্টির মাঝে--- 

কোন পাখি উড়ে যায়, কে জানে এ ঝরের দিনে?

বাড়ি থেকে বেরিয়ে সব রাস্তা নদী হয়ে গেছে 
পাড়ে পাড়ে বাঁধানো শশ্মান, বটগাছ--- কত পাখি! 

ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসছে আরও....


∆∆
ঠিক কেমন যেন!


তোমরা সবাই কেমন কেমন হয়ে যাচ্ছ 
আমি বুঝি না, ঠিক কেমন?
কিন্ত বুঝে যাই, ঠিক কেমন যেন...

কতদিন বড়ো হচ্ছে না মায়ের চালতা গাছটি 
পোষ মানছে না ভুলো বিড়াল 
বাক্সে জমে থাকা জামাকাপড় রোদে আসছে না 
কলের পারে কেমন যেন, কেউ স্নানে যাচ্ছে না 

আমি বাবার দিকে তাকালে, বাবা মা'র দিকে তাকায় 
মা উনুনের দিকে তাকালে, আমি আকাশের দিকে তাকাই 
আকাশটা যেন কেমন কেমন ঘোলাটে, 
যেন সব মেঘেরা ফেরি করা বন্ধ করে দিয়েছে 
চুপচাপ, নিশ্চুপ---

বৃষ্টি হওয়ার কথা ছিল, তাও হল না 
খালি বারবার ভুলভাল মোরগের ডাক শুনছি!

অলংকরণ - সুধাংশু বাগ
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 22 September 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৩

 ভগীরথ সর্দার এর কবিতা -

∆∆
রাস্তা 

যেখানে রাস্তা শেষ হয়
সেখান থেকে ঘরমুখো হতে নেই।

রাস্তার মনের খোঁজ নিয়ে দ্যাখো
প্রতিটি শেষ রাস্তার পরেও
না-হাঁটা আরও অনেক রাস্তা থেকে যায়
আড়ালে ...


∆∆

নদী চেয়ে রয়েছে

নদীর চেয়ে থাকা নিয়ে জল বয়ে যায়।
কিছু প্রশান্ত চিহ্নের আলো
ঘুরে ফিরে আলোময় করে তোলে পথ।

পাড় বেয়ে ধীরে স্রোতের বিপরীত অভিমুখে
ভেসে থাকা দখিনা হাওয়া
আধো অন্ধকারে চুপি চুপি একা
পথ হারায়।


∆∆
অনুপ্রবেশকারী


আর একদিন তার জন্য মরব।
আর একদিন তাকে নিয়ে পাড়ি দেব নিজের ভেতর।

আর একদিন হয়তো সে আমাকে এসে বলবে
আমাকে নিয়ে তার না-ভাবা রাতগুলো
অনুপ্রবেশকারী।

এই প্রজন্মের দোহাই দিয়ে তাকে বলবো
আমি তোমাকে ৩৬৫ দিন কাছে পেতে চাই ‌।


অলংকরণ - সুধাংশু বাগ
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 21 September 2023

কবিতা

বনশালুকি জল পর্ব -৩


মিসবাহ জামিল এর কবিতা -

∆∆
ফারিহা ঋতি

ভালো লাগে বলে বন্ধু ফুল হয়ে চলি
এমনই আমার জীবনের অলিগলি 
ভাবি, ফুল ছাড়া এ জীবনে কিছু নেই
আমি তো লুকিয়ে আছি নামের ফুলেই

ভাবনায় ছেদ পড়ে; মনে হলো এক
কোপ দিয়ে কেউ কেটে দিলো কলাগাছ
অথচ দেখেছি আমি তোমার স্বরূপ
পুড়ে খাক হচ্ছি যেন আগর কি ধূপ!
ভিতরে হয়েছে সৃষ্টি প্রেম-ঘূর্ণিনাচ
হৃদয়ের মাঝে বিদ্ধ তাড়না-পেরেক

তোমাকে বলছি, শোনো, হে ফারিহা ঋতি,
ধুলি ঝাড় নমুনায় দূর করো ভীতি
ঢোলের মতন প্রেম ঝুলিয়ে স্ব গলে 
ফাটে না এমন তালে বাজাও নিরলে


∆∆
বিপ্লব

মানুষ, প্রেমের আঠায়
ঐক্যবদ্ধ হও
উড়া শিখো
শূন্য থেকে পাথর হয়ে নামো
জালিমের মাথার ওপরে 

স্বস্তি বের করতে হবে
নারকেল ফাটিয়ে যেলা পানি বের করি


∆∆
অনুসন্ধান 

আমি মেয়েমানুষের ভিতর দেখি
নিজেকে বেড়াই খুঁজে 
পুকুরে পলো দিয়ে
মাছ ধরার পদ্ধতিতে

মেয়েমানুষের মন-ময়দানে 
নিজের ঘরান খুঁজি
কুত্তা যেলা মরাগোরুর গন্ধ শুঁকে 
সামনে এগোয় 

অলংকরণ- সুধাংশু বাগ
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••