Tuesday, 12 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৯

দেবশ্রী দে এর কবিতা -

∆
পলাশ

গল্প বলা হচ্ছে দেখে
কেউ কেউ ছুটে গেল রাতের শেষে
তখনই প্রবল হাওয়া,
তখনই তোমার দরজা খুলে যাওয়া
নিশ্চিন্ত হতে হতে ভাবি
যাদের গায়ে এখনও শীত লেগে আছে
যাদের গায়ে এখনও চাদর,
তুমি তো তাদের কাছে আলো হবে ঠিক

আমি কোন অন্ধকার স্বরে বৈকুণ্ঠের পলাশ কুড়োব?


∆
ভিজে যাও তবে

আমাদের ছবিতে কত রং
বসন্ত, কাচের গ্লাসে বেগুনি তরল
চুমু খাচ্ছি দেখে যারা হেসে ফেলল খুব
তাদের মুকুল দাও, গন্ধ শুনুক
আমি কারও নই, কেউ নয়তো আমারও
ভিজে যাও, ভিজে যাও চোখে
সাধের নৌকাটিতে শোক নেই ডুবে দেখবার

আহত নেশার মতো তোমাকে জেনেছি

∆
সেবা

এই যে বারান্দায়
জ্বর এল রক্তদাগ বেয়ে
অলৌকিক ভাবুক যে যেমন লোকে

তুমি জানো, এইসব বৃথা গবেষণা

কী তরঙ্গ খেলেছে এই কাছে-আসা-দিনে

তুমি জানো, বসন্ত কেমন বেদনা

সেবা আনো অপরিচিত হাওয়ার দখিনে

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Monday, 11 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৯
গৌতম কুমার গুপ্ত এর কবিতা -

∆
নীল উপাখ্যান

ধনুকে ভাঙোনি পণ অগ্নিতেজ সমান
সেও তো মোহজাত দ্রবণের ঐচ্ছিক ফেনা
চোখের ওপরে ভাসাও কমনীয় শ্রীমুখ
আমি তাকে ঘৃণা বলি না, বলি প্রিয়তা
অঙ্গীভূত করি তাই সমূহ ছাই ও ব্যথা
উড়ে যায় অসম ও তফাত প্রাচুৃর্য ভিন্নতা

ভালবাসা যদি এভাবে উচ্চারিত হয়
জলাশয়ের অথবা ভিজে যাওয়া শব্দে
মিশে যাবো তোমাতে প্রাণিত দৈব বৈভবে
আমার যা ফেলে দেওয়া ধূলো অথবা কাদা
কুড়িয়ে নেবো, শুধু তোমাকে নয় ঈশ্বরী
আমাকেও ভালবেসে নিজস্ব জলীয় সহজে

এও তো ঐশ্বরিক ভালবাসার অর্জিত মেধা
দেহে মনে মিলে যায় আমার সব অর্জিত দ্বিধা...


∆
প্রাক্তন

অভ্যাসের ঘর থেকে বের হয়ে গেলে
পড়ে থাকে অবশেষের অংক
শূণ্য চেয়ারে বসে আছে ছায়া
ছায়া দেখছে হাসছে কথা বলছে

শূন্য দৃষ্টিতে অস্তরাগের বিকেল 
পাখিদের ফিরে যাওয়া সাঁঝবেলা
এখনো পড়ে আছে খাতা পেনড্রাইভ
কাগজপত্র ফাইলের পুরোনো গন্ধ

চেনা জানালার পর্দা পাইনগাছের সারি
ঝাউ দেবদারু দেয়ালের গায়ে ক্যালেন্ডার
অপরিচিত ঠেকছে ফিরিয়ে দিচ্ছে তাকে
পরিচিতের মাঝখানে এক আগন্তুক সে

দেনা পাওনার হিসেবে পড়ে আছে
শ্যাওলা চোখের অর্ন্তভেদীর দৃষ্টি
পরাজিত নয় তবু নিয়মনিগড়ে বাধা
পাঁজরের ইতিহাসে শ্মশানের হাড়গোড়....


∆
মধু-সংক্রান্তি 

এই য়ে বটবৃক্ষের ছায়া এই যে অশ্বত্থ জারুল 
এই যে হিরন্ময় হিরণ্যরেতা
এই য়ে হরিতকী শাখার শুষ্ক ভগ্নাংশ
ওই য়ে ছিন্ন পালকের এক ফোঁটা শোণিত
ওই য়ে নীল অম্বরের ভগ্নাংশ মেঘ

এই যে পুষ্করিণী অববাহিকা এই যে তৃণগাছের পত্রমুকুল
এই য়ে সুশোভন যুবা্ এই যে সুলোভিত কপালের টিপ
ওই যে মহাকাব্যিক মোহমায়া ওই যে জাগতিক প্রেম
ওই যে মধুচৈত্রের শেষ বেলার লগ্নপ্রহর

বড়ো আনন্দে রেখেছে রভসের শ্লীল
আমি তার কথাকলি তুমি তার পত্রভাষ
আমি তার যাজ্ঞিক তুমি তার তপস্বীনী স্বাধ্বী
আমি তার আত্মিক তুমি তার অনুব্রতী

এই যে বৃন্দ সুললিত সুরম্য এই যে আমোদিত আহ্লাদ
এই যে প্রবুদ্ধ সহজাত চোখের অনাবিল ছায়া
এভাবে ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে পড়তে..........


অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 7 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৮

নিমাই জানা’র কবিতা -

∆
ক্ষুধা ও পাতকের তীর্যক লেহন দৃশ্য


জীবের মতোই অদৃশ্য জড় জগত । শরীরে সুধন্যার জলযোগ । কল্কিদেশ পাথর , ঝুলে থাকে এক একটা কৈলাস অথচ সরোবরে আমাদের শ্বাসকষ্ট রোগ । ক্ষুধা বড় ভগবানের প্রিয় । ভিক্ষুক ও । এখানেই দাঁড়ায় চর্মরোগের মতো একটি কারুবাসনা । উদ্ভিদের পিপাসা বেড়ে ওঠে । নাভির থেকেও আরো পাতালে সবুজ পাঁকের মতো নরম মাটির দেহজ কঙ্কাল । শুক্তির মতো স্ত্রী শরীরেরা ছায়া আঁকে আঙ্গুলের ফাঁকে নখর ও মোলায়েম মেহনে ।
থকথক করে ওঠে ক্ষতিযোগ । রতি একটি প্লাস্টিক কোটেড রমন । সূত্রধর , কে কাকে নির্মোহ শেখায় হে ভক্ত ?
নিষিদ্ধ ছিলায় বাণ যোগ করো , উপড়ে আনো এ গুরুআশ্রম । অগস্ত্য ও শ্বেতাঙ্গ পিতার ত্রিবিধ অরণ্যের কঙ্কাল ।
এখানে শুধু রাজাধিরাজ এসে কামনা করেন কর্মযোগের । কর্নিয়ার অতলে পিপাসা ভাসে কঙ্কাল স্বেদ ও তর্পণ পিণ্ডের মাংস।
পিপাসা বলতে ক্ষয় রোগ।ছুঁয়ে যায় নাভি ও আচম্বিত উৎসব ঘোর । এখানে কেউ কোন সম্বন্ধ যোগের কথা বলল এবার
ভগবানই আসলে দুমুখো সাপ । আমি কাঁচের বোতলে পরাগত বিষের শীতল জমিয়ে রাখি , অট্টহাস্য প্রেম বন ফরাস জ্বালো ।


∆
 অম্লজান নেশা ও জাগতিক শীতলের উত্তরাগমন


জগত ও বুবুক্ষাময় । শক্ত সনাতন স্বৈরীনী নারীটি নিভৃতে রোদন করে । আসক্তি কি মর্মরের মতো ? অদ্ভুত বাস্তব পোকা ক্ষয় খায় ।
রক্তে ভজামহ্যম নৌকা । শুধু নেশা চলে যায় ভক্তির উপাচারে । সাজায় সব গোধূলি, গোপালীগণেরাই নগ্ন শ্রীহীন অভ্যাস জ্ঞান ।
শীতল মেলক বলে কিছু নেই , কণিকার মতো রক্তস্রাবের অঙ্গুলি লেহন ।
জলপ্রপাত । হে অর্পণ , কর্ষণ যজ্ঞের মহা প্রসাদকে এখনই কঠোর পিতার হর্ষ ভয় উদ্বেগ করো , বেরিয়ে এসো শীতল জাগতিক শরীর থেকে। এখনই করুণার মতো উত্তরাখণ্ড ঘটবে শরীর যোগে
পিতারা চলে যাবেন দক্ষিণ গমনে..
তূর্য বাণের মতো নিক্ষিপ্ত দরজা , ঠেলে আসে বেদ ও ঈশ্বরের মতো কঠিন বস্তু পিন্ডেরা উত্তরায়ণ চন্দ্রখন্ডের তিমির পলাশ। হ্রিং ক্রিং। মেষ রাশিটি বড় বিহ্বল ।
এ যজ্ঞেই শুধু সমর্পণ ও ভক্ত মানুষ । ভক্তই মাতা । তারপরেই অদৃশ্য সব । ব্রহ্মের নব অর্জুন শাখা নষ্ট হয়ে যেতেই বিদূরিত তপস্যা লাগে । নির্মম কুবের কতবার ছুঁয়েছে ভদ্রাকে ।
এবার শ্রীনিকেতনে রাধা বিসর্গ চিহ্নের দেবদাস লুকাও । হত্যা ও তুরীয় । নিভৃত নিরবিচ্ছিন্ন যোগ সাধনায় তৃষ্ণাতুর কখনো কখনো বিশুদ্ধ দৃশ্যের পাপস্খালন দেখে ।


∆
 তৃষ্ণার কমন্ডুল ও কল্কির সঙ্গম বাধক দশা যোগ

স্তন সমগ্র । মেদ সমগ্ৰ । মুখাগ্নি সমগ্র । ভেষজ মাংসাশী সমগ্র । নঙ্গর্থক দোলা থেকে শাঁখের মতো দুলছে অদৃশ্য চুম্বক । পালকে পালকে করাঘাত অদ্ভুত সংঘাত , মুক্তিযোগ ঈশ ।
ফেনাময় এ স্রোত । জিভের গ্যাঁজলা ও কর্কট । সাত রিপু ও শব উপাচারে উদ্দেশ্য বিহীন তরল ধাতুর নিষ্কাশন । পাত্রে অদৃশ্য ভূত
এ গৌর মহাঘোর , বিভাজিকায় আঙুল দিয়ে ছিদ্র করি সাপ।
বিকট অন্ধকারে এ মহাজগত ঘোরে লেলিহান দগ্ধ আগুনমুখীর ইদ্রিশে ইদ্রিশে
লাল আজরাইল নাচে । কৃষ্ণ পাথরে পাথরে চুম্বন কষ লাগা ঘর । চাঁদ ও জন্ম নেয় যোনি দেশ থেকে , পিতাদের চোখে গৃহ ও আলোর শক্ত মানুষের খনি, রাত্রির মতো নির্ভুল গাছ চুপ করে থাকে ঈশ্বর দরজায়। এতো এতো আকাঙ্ক্ষা ক্ষীতের উপাংশে।
সব পাপ খাই আমি । শ্রীহীন উলঙ্গ দরজায় বিষাক্ত কাঁকড়া। এ দরজায় দরজায় নৃসিংহ নাচে । পাত্রী ও কমন্ডুল দিশাহারা।
কাঠের মতো বিষোদ্গার করে যৌনরোগ । বাধক ‌। শ্লেষা ।
ঈশ্বরের ভেতরে ও নিকৃষ্টতম যৌন রোগের উপসর্গ, দেয়াল বেয়ে কান্না নামে গাছের পলকের ধার ও রন্তিদেব , ক্রিয়া ।
হে ক্ষমা , তৃষ্ণা দাও অদ্ভুত প্রান্তদেশে একটা রক্তের উৎসর্গকৃত মাংস খেয়ে আমি জলের অটলে স্নান করি চামড়ার প্রদাহ মেখে । গর্ভস্থ সুনিতা নৃত্য করছে । কল্কি কাঁদছেন মায়া অঘোষ সংসারে সংসারে ...

ছবি - মেহবুব গায়েন
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Wednesday, 6 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৮


নীলম‌ সামন্ত এর কবিতা -

∆
হঠাৎ মেঘ চলে এলে

হঠাৎ মেঘ চলে এলে 
মস্তিষ্কে অঙ্কুরোদগম ঘটায় অজ্ঞাতবাসের দানাপানি 

মাথার ওপর চিল
ঘিলুতে বন্দী হয় লুব্ধক 
নানান মাপের ফানেল, ভিন্ন কেমিক্যাল রিঅ্যাকশন 
বাষ্পের আগল খুলতেই উড়ে যায় প্রশ্রয়জনিত চাঁদমুখ 

চন্দনের হাওয়া মহল 

চাঁদ আর চন্দনের মধ্যে কোন ব্রিজ নেই 
অথচ ভাষ্যকারের সামনে জয়েন্ট স্ক্রিন 
সম্প্রচারিত হতে চায় 
বেহেশতের ছোলা গুড় আর তেল জলে ডুবে থাকা পেপার ওয়েট 

∆
হেমন্ত আসছে

প্রথম যাম পেরিয়ে যাচ্ছি 
এখন লিঙ্গ নির্ধারণের সময় 
প্রেম করার নয় 

অপ্সরার পোশাকে সাপের ছোবল 
আসনে নির্বাচনী শ্লোগান
                         ... উচ্চারণে দ্রাক্ষারস 
চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ভিজে যাচ্ছে রোমাঞ্চিত স্নানঘর 

শার্সির বাইরে দেখ একটুখানি আলোয় 
লাইন ধরে বসে আছে জলছাপ পালক

হেমন্ত আসছে 
শিশিরে ভিজে যাচ্ছে ব্রহ্মলোকের দ্রুমরাজ

∆
আগামী দশদিন পর 

বৈকুণ্ঠধাম থেকে পালিয়ে আসা মেজাজ 
আর পেরেকের রাজকোষে 
হাই তোলা দৃশ্য 

অতঃপর 
গল্প তৈরি হওয়ার কারখানায় ভাবনাদের উন্নয়নে 
জিভ কার্যকরী না হলেও 
পাকস্থলী প্রব্যাবিলিটির ধাপে বসিয়ে দেয় 
বিষক্ষয়ের উঁকিঝুঁকি 

এই সব দেখেশুনে, আঁশের খাঁজে ঢুকিয়ে দিচ্ছি 
দ্বিতীয় রিপুর তরতাজা হাত-পা 
আগামী দশদিন পর 
গরু দান প্রসঙ্গে উল্লেখ করব 
শিল্পের অভাব আর হাওয়াই চটির বিজ্ঞাপন

অলংকরণ - প্রসাদ মল্লিক
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Monday, 4 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৮

অশোক অধিকারী’র কবিতা -

∆
প্রিয়েরে দেবতা

সন্ন্যাসের আগে সে এক নারীর বিছানায়
দু'বার শুয়েছিল। বৈরাগ্য অথবা বালিশের
একটিকে বেছে নিতে সে গলায় পরেছিল রুদ্রাক্ষ। 

শ্লোক পর্ব শেষে প্রণাম রেখেছিল বৃহন্নলার পায়ে;
গঙ্গা স্নানের আগে পড়েছিল গীতা।
ফলের আশা অথবা নিষ্কাম কর্মের দোহাই
দিয়ে মানুষ বারবার খুঁজেছে নারী।


∆
আমার মল্লিকা বনে

বনবাসপর্ব শেষে তুমি একটা ‘না’শব্দ
উচ্চারণ করতে সাহস পেলে না।
ফলমূল শাকান্ন অল্প আগুনে সাদাভাত
ঘৃত মধুর পরেও একট শব্দ এত দামী।

গোটা মহাকাব্য জুড়ে এত পৌরুষ কান্তি
তার পাশে বাল্মিকী রেখেছিল আগুন।
সবটুকু খেয়ে সেই যে স্থবিরতা নিলে
তারপর থেকে নারী শুধুই নারী।


∆
মালা ডাক 

ঐ মালা আমার।

ফুলগুলো বিরক্ত হয়ে নড়ে উঠল;
সাদা সুতোর বহমানতা এত বিধর্মী যে
গলার বাছ বিচার করেনা।

ঐ মালা আমার।
নিলামে তুলেছে যে পুরুষ তার
লিঙ্গ স্নানে অগাধ ঢেলেছি ডবল টোন দুধ।
তবু,বর রোজ রাতে বিছানায় রাখে চিতাকাঠ;
শরীর পাল্টে পাল্টে একবার মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য 
আর একবার কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ; 

ছবি- বিপ্লব ভূঞ্যা
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Saturday, 2 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৭


রাজু মণ্ডল এর কবিতা -

∆
সন্দেহ 

রোজ কথা বলি 
কম হোক 
বেশি হোক 
তবুও বলি 

আর যতটুকু বলি 
ততটুকুই আমি 

যাকে যাচাই করে করে তুমি 
শুধু সন্দেহই করে গ্যাছো বারবার 


∆
ফুল মাটির

ফুলকে নিয়ে 
গাছ ও হাওয়ার লড়াই 

এ বলে আমার 
ও বলে আমার 

ফুল এসব ভাবে 
আর হতাশ হয় 

তারপর 
একদিন ঝরে পড়ে 

আসলে 
ফুল মাটির ছিল 


∆
আলো হয়ে ফোটা

আমাদের সব দেখা 
আলো হয়ে ছড়িয়ে যায় 

আমি তোমাকে দেখি 
আর তুমি আমাকে 

শুধু 
দুজনের চোখের কাছে 
দুজনের শরীর 

আলো হয়ে ফুটে থাকে


∆
দৃষ্টিগোচর 

গরিব বলে 
বাড়িতে পূজা হবে না 
সন্ধ্যা দেওয়া হবে না 
তাই কি হয় 

মা প্রতিদিন সন্ধ্যায় 
ঠাকুরের কাছে প্রদীপ জ্বালান 

আর 
শাঁক বাজিয়ে দেবতাকে বলেন যে 

সামান্য 
সর্ষের তেলে জ্বলা প্রদীপ
নেভার আগে 

তিনি যেন 
এই সংসারের দিকে একবার তাকান 

অলংকরণ - প্রসাদ‌ মল্লিক‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••


Friday, 1 March 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৭


কবিতা সামন্ত এর কবিতা -


∆
পৃথিবী 


আমি বাবার মতো পৃথিবী দেখিনি...

পৃথিবীর মতো বাবাকে দেখেছি।


বাবার পৃথিবীতে আমি,আমরা আর জীবন থাকে।


আমার বাবা পৃথিবীতে বাবার সবটা আছে 

তাই আলাদা করে 

পৃথিবী দেখার ইচ্ছে নেই।


দিন শেষে বাবার মুখটা দেখলেই 

সব দেখতে পাই।

আমি পৃথিবীর মতো 

আস্ত একটা বাবাকে দেখেছি।



∆
আশ্চর্যের আলোকবর্ষ


ঘেরাটোপের ভেতর ঢুকে 

পড়ছে আলোকবর্ষ।

অথচ আমি কোন আলোকবর্ষের 

ভেতর হাট বসাইন...

শুধু জল রঙের একটু খিদে চেয়েছিলাম।


রাতের হাওয়ায় জন্ম নেবে ভোরের 

আলোয় মুক্ত হবে আর...

আর তারপর উবে যাবে দিনের শুরুতে।


আমি আলোকবর্ষ ছুঁতে চাইনা...

আমি আলোকবর্ষ স্পর্শ করতে চাইনা তবুও 

স্পর্শে দেখি আলোকবর্ষ 

মজ্জায় মজ্জায় মিশে যাচ্ছে!


∆
বিলাসিতা

  
তুমি উত্তেজিত হয়ে যাও 

আকাশের দিকে তাকালেই।

আমি তখন পায়ের তলার মাটি তল্লাশ করি!


তুমি উড়ছো তো 

উড়েই চলেছো পাখিদের মতো আপন খেয়ালে।

আমার আর কিছু করার থাকেনা!


আমি তখন নিজেকে বড্ড অপরাধী ভাবি...

যদি আমার সঙ্গে এই মাটির মতো 

মিশতেই পারলেনা তো কেন 

আমাকে ভালোবাসলে মিছিমিছি!


আমার কোন আকাশ কুসুম ভাবনা নেই।

আমার কোন ওড়ার মতো পাখনা নেই 

বিলাসিতা করার।


অলংকরণ - প্রসাদ‌ মল্লিক‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••