Tuesday, 13 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৪

দিশারী মুখোপাধ্যায় এর কবিতা -

∆
নিজেকে অপ্রিয় করে 
 
নিজেকে অপ্রিয় করে তোমাদের চোখে 
দাঁড়িয়ে রয়েছি এই অনতিদূরেই ,
বুঝে নিতে চাইছি বন্ধু কীরকম লাগে এই খেলা ।
কতটা হাতুড়ি ঠিক সহ্য হয় আমাদের সামান্য প্রেমে ,
রোষের কামারশালে কতক্ষণ টিকতে পারে প্লাস্টিক-মন।
আমার শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বেড়াই ,
দেখতে চাই অতিষ্ট হওয়া কত দ্রুত শিখে নিতে পারো।

এত এত রঙ আছে পৃথিবীতে 
শুধুমাত্র সফেদ সাজ পছন্দ হয় না আর , 
কালোকেও একবার সাধ হয় আলিঙ্গন দিতে ।
আমার কর্কশবাক্যে নাইই যদি খুশি হও  নাইই হবে,
অখুশির বিভা লাগলে 
তোমাদের জামার প্রিন্ট কীরকম হয় , জানা হবে ।

আমি যদি একবারও বিষদাঁত ব্যবহার করি , দেখা হবে 
মৃত্যুর ঠুনকো ঘায়ে 
তোমাদের অমিয়-রূপ কতটুকু টেকে ।


∆
চলো সূর্যের সঙ্গে 
 
চলো , সূর্যের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে আসি ।
অস্থির ভেতর যত জড়তা ,দুর্বলতা ,অভিমান সঞ্চিত হয়েছে ;
তার কাছে বিস্তারিত বলি সেইসব।

কতদূর যাওয়ার কথা ছিল আমাদের এই মানুষ-জীবনে,
কতটুকু যাওয়া হল,
বাকি রয়ে গেল আরও কত বেশি ,
সেইসব নিয়ে সফেন আত্মস্মৃতি লিখে লাভ নেই।
চলো, তাকে সব খুলে বলি।

সর্বাঙ্গ দিয়ে যদি তাকে করি আলিঙ্গন ,
সে তার উষ্ণতা দিয়ে আমাদের সব অপারগতা 
ছাই করে দেবে ।
আর কোনো যন্ত্রণা, কোনো অনটন 
আমাদের ভাঁড়ারের বাড়ন্ত সামর্থ্য নিয়ে 
ব্যঙ্গ করতে সাহস পাবে না।

চলো, সূর্য-সঙ্গমে কিছু রতি 
যথাযথ ব্যবহার করি।


∆
ওহে নিশ্চয়তা ,আর কতদূরে 

ওহে নিশ্চয়তা , আর কতদূরে তুমি ঘাপটি মেরে আছ ?
পৃথিবীর সব পথ হাঁটতে হাঁটতে শেষ হয়ে এল ,
ঠিকানা কি কোনোদিন পরিচিত হবে না আমার সঙ্গে 
এ জীবনে ? 

মধ্যাহ্নে ছাদের কার্নিশে বসে 
বিজাতীয় পরিচয়হীন দুটো পাখি 
পরস্পরের কথা নিজ নিজ বোধ দিয়ে বুঝে নিচ্ছে ঠিক ,
তাদের তো ধরা দাও তুমি সহজেই আপন গরজে।

ভাষা দিয়ে তৈরি হয় আমাদের যত ভালোবাসা ,
ভাষার অভাবে তারা মারা যায় ইতিহাস জুড়ে ।
এই নিয়তির অন্য কোনো অন্যথা হবে কি কখনো ,
নিশ্চিত বাড়ির খোঁজ আসবে কি আমাদের কাছে? 


∆
তোমার সমস্ত কথা  

তোমার সমস্ত কথা হানা দেয় আমার বাড়িতে ,
আমার উঠোনে যত গাঁদা কসমস - এই শীতে ,
তাদের পাপড়িতে লেগে থাকে ।
গরম কফির ছোঁয়া তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে ফিরে আসে বলে 
আমার হরমোন-তন্ত্র রম্য হয়ে ওঠে । 
এই কথা জানা হয়ে গেছে বলে 
অতিরিক্ত দেমাক দিয়ে নিজেকে অমিল করতে চাও।
তোমার কথারা কিন্তু ,যা যা তুমি বলেছিলে একসময় ,
জলের বিন্দুর মতো ভেসে ভেসে ফিরছে হাওয়ায় ;
তারা ওই দেমাকের কথা ভেবে নিরস্ত হয় না কখনও।

তোমার সমস্ত ঘ্রাণ লেবুর পাতার দেহে 
যেন ক্ষীর , নাচে কাফি-স্বর হয়ে ।
তোমার সমস্ত ছায়া 
উজ্জ্বল আলোয় ভরে থাকে ।


∆
জানি এটা বিষ 

জানি এটা বিষ ,
মুখে নিলে মৃত্যু অনিবার্য।
তবুও, সামান্য মৃত্যুর ভয়ে 
বিষের মোহিনী-রূপ ,
মধু-স্বাদ 
অস্বীকার করতে পারি না ।

জানি ঢি-ঢি হতে পারে ,
সমাজে ,সভায় 
পদচ্যুতি হতে পারে 
সংসারের দাক্ষিণ্য প্রাপ্তি থেকে ,
তবুও গহ্বরে ঝাঁপ 
না দিয়ে পারি না ।

জানি ওটা শব্দভেদী ,
বুকে এসে বেঁধে ।
তবুও জলের সঙ্গে মিলনের কালে 
শীৎকারের শিল্পরূপ 
না এঁকে পারি না ।

ছবি- মেহবুব গায়েন
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Saturday, 10 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


দেবার্ঘ‌ সেন এর কবিতা -

∆
অসম্পৃক্ত 

দুটো মানুষের ছায়া মিশে যাচ্ছে, 
আলো যেন পাউডারের মত 
ছড়াচ্ছে মৃদু দূষণ—
চারপাশে বন্ধ্যা বাতাস
প্রজাপতিরা রঙ মাখছে সাদাকালো। 

মনকে কেন্দ্র করে, ঘুরে চলেছে গ্রহেরা—
কক্ষপথ মাড়ালেই টের পাবে তরঙ্গের, 
তোমার চোখে কাঁদানে গ্যাস এসে 
মর্মান্তিক হতে চাইবে সময়।

অথচ তোমার হাতের সমস্ত রেখাই তো
চেয়ে চেয়ে থাকা বৃষ্টির-কাল।
যেমন দুটো মানুষের ছায়া মিশে যাচ্ছে 
তবু মানুষ দুটো মিশতে পারছে না কিছুতেই।

∆
ব্যাপন

অবজ্ঞার মতো এক দূরে ঠেলে দেবার প্রক্রিয়া থেকে, 
নিজেকে ঢেকেছি অন্ধকারে—
এ অন্ধকার দেশলাই বাক্সের ভেতরে থাকা অমিয় আড়াল।
প্রক্রিয়া যতই নিষ্ঠুর হোক, বিস্মিত হই না আর। 
যতভাবে ভাঙার থাকে বা থেকে থাকে ভাঙার
তার থেকেও মিহি এ যাপন থরে থরে বারুদমাখা। 
তোমাকে বলতে পারার মতো কোনও কথাই আর নেই, 
নেই কোনও বায়ু ধোয়া জল।
বিশ্বাসের বিষে বিষে জুড়ে থাকা নশ্বর ভাইরাস 
সাজিয়ে তুলি আলমারিতে। 
একদিন আলমারির পেট থেকে 
গ্যাস অম্বলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে চারিদিক।

∆
রাঙামাটি মিথ

মন বড়ো ছোট বলে কিছু হয় না, 
যা হয় তা সবটাই বড়ো। 

জন্ম থেকে কোলাহল আর কাঁচে 
পা কেটে যায়
পা কাটতে কাটতে, 
ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস প্রগাঢ় হয় এমন 
যেন তা রাঙামাটি। 

রাঙামাটি, বিশ্বাস সবই কিন্তু মিথ
মন বলে যে বস্তু নিয়ে নাড়াচাড়া এতো
সে আসলে মিথেরই পক্ষপাত

কোলাহল অথবা কাঁচ থেকে 
জন্মের পা কেটে যায়, কাটতে কাটতে তখন
মন দিয়ে মনকে দেখি—

কখনও তা রক্তশূন্য 
কখনও বা রক্তিম।

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 9 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা -

∆
লুকোচুরি 

ক্রমশ রাত গভীর হলে অন্ধকারে আমাদের আজন্মের লুকোচুরি শুরু হয় 
মিউট করা টেলিভিশনে আলোও তখন ম্লান হয়ে আসে আজব সে চু কিত কিত ,কবাডি কবাডি খেলা
ছোটাছুটির মাঝে এক সময় ললিতা বিশাখা হাতের মুঠোয় উঠে আসে, ধরা দেয় ঊর্বশীর নগ্ন শরীর 
মোহ ময় লাস্যে যেন মোম ,যেন কস্তুরী মৃগ
দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের মতো ঝুনে খামচে অদ্ভুত সব হযবরল. ..দাঁত বসিয়ে দেওয়া. ..ঠোঁট থেকে ঝরতে থাকা রক্তের লালা , ,নোনাস্বাদ চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে তবু কেউ কাউকে দেখতে পাই না. ..
সংঘাতজটিল পিঠ থেকে ক্রমশ নেমে আসা পার্বত্যভূমি কেঁদে কঁকিয়ে ওঠে, কবিরা শুদ্ধাচারে
যাকে বলে জঙ্ঘা,যেন প্রতি অঙ্গ কাঁদে রতি মহারণে
পা থেকে মাথার চুল অব্দি নিঃশ্বাস উদ্গীরণে
অধীর হয়ে ওঠে যেন মুহূর্মুহূ কেঁপে ওঠে সসাগরা 
মেদিনী, রেকটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা সবিশেষ 
পূর্ণতা পা য় ,সেও যেন বলতে চায় ,আর নয় আর নয় স্বর্গ মর্ত্য পাতাল যে ধ্বংস হয়ে যায় ......


∆
জোৎস্নার ভাষা

আমি কিছু বলার আগেই সে আমার দিকে বাড়িয়ে দেয় হাত,আমি কি এই হাত স্পর্শ করবো,টেনে নেব বুকে. ..? জানিনা সমস্ত কথায় আজ কথার কথা হয়ে ধরা দিচ্ছে মথুরার হাটে
ক্রমশ তোমার ছায়া দেখা যায় 
শহরজুড়ে মেঘ জমে ,বৃষ্টি পড়ে 
সুয়োরাণি দুয়োরাণি আমাকে দেখায় ...
কী যেন মায়া তার শরীরে, ফেলে যায় গতিপথ সবুজ
ঘাস ও সোনালী ধানে ,গোপন কথার মতো 
মিলনের আনন্দ স্বপ্নের কাজল এমনকি পার্বতী ও পরমেশ্বরের অলৌকিক ষড়যন্ত্রে চিকচিক করছে তখন ভালবাসার শালগ্রাম শিলা 
কিন্তু কোনও ছবিই আজ স্পষ্ট নয় ,মনে হয় 
প্রেম ভালবাসা আঁকতে আঁকতে ঘৃণা ঈর্ষাকাতর 
ক্রোধ ঢেউ গুনতে গুনতে রাত্রি কাবার হচ্ছে শুধু 

ভাবছি, অন্ধকারের আলো আর জ্যোৎস্নার ভাষা তাকে ঠিক শিখিয়েই ছাড়ব, তবে অবশ্য শেষপর্যন্ত 
সে হাত সরিয়ে নেবে কীনা জানিনা ......

 
∆
দৃষ্টির বদলে হাসি

দৃষ্টির বদলে হাসি তুমি শিখিয়েছিলে,অক্ষরে অক্ষরে 
আমি সারাজীবন তা পালন করে গেছি 
এখন বিভ্রমের অনুশীলন না অনুশীলনের বিভ্রম ,
অন্ধকারের বেদনা না বেদনার অন্ধকার জানিনা
আন্দোলনের যন্ত্রণা না যন্ত্রণার আন্দোলন প্রতিদিন 
প্রতিমুহূর্তে আমাকে তিষ্টোতে দিচ্ছে না
কুরে কুরে খায় যা আমার না কিংবা ছিলনা কখনো 
তাকে ছোঁয়ার প্রবণতা কি ঠিক ? 
ভাগ আর বাটোয়ারা কি এখনো সমার্থক শব্দ অভিধানে ,আগুনের সঙ্গে ঘিয়ের তুলনা করতে গিয়ে আমি অন্ধ হয়ে গেছি অথচ ঋতুভেদে বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বজ্রপাতে প্রলয়তো বন্ধ হয় নি. ....


ঘুড়ির সঙ্গে সুতো আর সুতোর সঙ্গে ঘুড়ি 
যেভাবে লেপ্টে থাকে সুখের সময় দুঃখ 
আর শান্তির মধ্যে অশান্তি ঠিক সেইভাবে আমার জীবনে লেপ্টে আছে মানুষ কেন অহংকারী 
জল কেন নিম্নগামী ,পোষা কুকুর কামড়ানোর আগে 
কেন মালিকের মুখের রেখায় একবার তাকায় 
বিস্ময় , এসব তুমি শেখাওনি কেন আগে 
তাহলে বুঝতে পারতাম খাম থেকে গোলাপি চিঠি বের করার আগে কোনো উড়ানের স্বপ্ন দেখতে নেই...



ছবি - মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 8 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


সুশান্ত সেন এর কবিতা -

∆
তুমি

তুমি ব্যাকরণ আমি জ্যামিতি
এই রকম একটা খেলা খেলতে বসে
আকাশের রামধনু ওঠা দেখছিলাম।

স্কটল্যান্ডে'র আকাশ থম মেরে থাকার পর
ভেলকি দেখাচ্ছিল।
এদিকে দ্রুতগতি মোটর গাড়ী তার নিশানায়
রেখে দিয়েছিল বরফ রাজ্যের রোপওয়ে।

রামধনু যখন বুঝতে পারলো
গাড়িটা থামবে না তখন সে 
তার শাড়ির আঁচল খুলে
গুড়ো গুড়ো করে সাতটা রং
বাতাসে মিশিয়ে দিলো।

পথিক বুভুক্ষু শুধু চেয়ে থাকলো।


∆
কবিতা
             
একটা কবিতা লেখা হলো কি হলো না তাতে
কিবা যায় আসে।
কবির মনে ত সে রচিত হয়েছিল
সেই তার তৃপ্তি সেই তার আনন্দ।
কবিতা সেই আনন্দের কথা ভেবে
পাশের চায়ের দোকানে চা খেতে বসে
যখন উথাল পাথাল মন,
তখন কবি বললেন - এখানে নয়
চলো বিশু'দার দোকান থেকে
টোস্ট ওমলেট খেয়ে আসি।

কবি ও কবিতা পাশাপাশি হাঁটছে ।


∆
পুরোহিত
                   
আকাশের থেকে একটা তারা নেমে এলো
ইনকা পুরোহিত সেই ঘটনা
অলৌকিক বলে প্রচার করলেন
আর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য
পুজোয় বসলেন।

প্রধান বিরোধী কে জোর করে বন্দী করে
হাত পা বেঁধে
সর্প - মুখী দেবতার সামনে উৎসর্গ করে
তিনশ ফুট উঁচু মন্দিরের চাতাল থেকে ফেলে
দেবার হুকুম করার সময়
এতটুকু তার গলা কাপল না।

পাশ্চাত্য ইতিহাস রচনাকারী 
দক্ষিণ আমেরিকার সভ্যতাকে
রক্ত পিপাসু বলে রটনা করলেন।

কারো কিছু এসে গেল না। ইতিহাস আর কতজনে পড়ে !

আকাশ থেকে আর একটা তারা খসে পড়লো।


ছবি- মেহবুব গায়েন
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Sunday, 4 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


অদৃকা ভট্টাচার্য্য এর কবিতা -

আঁধারের রঙিন সঞ্চয়: জীবনের বেহালা

* 
আঁধারের গায়ে খুঁজি মুক্ত দেহ 
হাত পা নাড়িয়ে মনে করিয়ে দেয় অস্তিত্বের আকাশ

*
শব্দদূষণের গতি বারছে, আমি ও বারছি
তলিয়ে যাচ্ছে মেয়েটির বিরহের আঁধার
ক্রমশ আঁধার কমে আসে, মেয়েটির ও আয়ু কমে
হাত পা‌ ছড়িয়ে দিয়ে - কবর গুলো ধিরে ধিরে
গিলে নেয় মেয়েটিকে, গিলে নেয় বেঁচে থাকার বিরহের আঁধার, বেজে উঠে বেহালা 

*
জোনাকি রঙে পরো জন্ম চাতক হব
জীবন কাটাবো রূপকথাতে বেহালা সুরে
ঘর বাঁধবো, সাজাবো, ভাঙ্গবো, উন্মাদের 
উপাধি নিয়ে চিতায় উঠবো, অসীম শূন্যতায়।



ছবি- মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••


 

Saturday, 3 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


দুরন্ত বিজলী’র কবিতা -


∆
কেউ চলে গেলে

তুমি যদি আগে চলে যাও,আমি অসহায়,
নিজের মৃত্যু কামনা করতে পারি কিছুদিন।
তারপর ধূসর হতে হতে আরও অসহায়।
তোমার ছোঁয়া গা থেকে ঝরে পড়ে,
এবড়ো খেবড়ো মুখে ঠোঁটে চুম্বনের দাগ
মুছে যায়। চোখে অন্ধকার ।
অবশেষে তোমার কাছে চলে যাব।

ইহলোক পরলোকের ঘূর্ণাবর্ত আছে কিনা
জানি না তবে মানতে ভালো লাগে।
আবার দেখা হবে ।

আর যদি মনিকাও এসে যায়
তাহলে?


∆
প্রেম

বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায় শুকনো পাতা।
কেউ যদি...

না না !

কেন চোখে জল ভরে যায়?
কেন মনে হারানোর হাহাকার ?
পরস্পর অদৃশ্য বাঁধনের মুক্ত আলো
নিভে গেলে
অন্ধকার অন্ধকার...

না না না....

বেদনার বেলাভূমে একটি আলো
অমলিন জ্বলে...


∆
বৃষ্টি শব্দহীন আমৃত্যু

প্রেমের কবিতা লিখতে বসলে মনিকা ভেসে ওঠে --
রূপনারায়ণ নদীকূলে হৃদয়ের জল উথলে ওঠে,
আকাশের নীলে মেঘ উদ্ভাসে,
বালুর নিদাঘ উত্তাপ এখন কিছুটা শীতল
চোখ ছলোছল।

কলেজ ক্যাম্পাস কবিতার জন্য
ঘাসে শিশিরে মাখামাখি,
পাশ দিয়ে যাবার সময় ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের বেদনা
বিছানো বাবলাগাছের তলায় থমকে দাঁড়াই।

ছলোছল বিন্দু বিন্দু বৃষ্টি বৃষ্টি ,
ভিজছে ভিজছে ...
গাছের শরীর বেয়ে দুঃখ ঝরে পড়ে।

কাঁদবো না বললে কান্না থেমে থাকে নাকি?
বৃষ্টি পড়ে, শিলা বৃষ্টি শব্দহীন আমৃত্যু।


ছবি- মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 2 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-২


বিকাশ চন্দ এর কবিতা -

∆
রাধা প্রেম হলুদ বসন্ত বুকে 

দু'বাহু জড়ালে বুকে ফেরে হারানিধি আত্মা
মানুষের গায়ের গন্ধে ফোটে পলাশ জারুল
সমস্ত ভাবনারা চেনে শিউলি বকুল শাপলা শালুক
তবুও পূর্ণিমা রাত চমকায় কুঠারের ধারালো ঘায়ে
অন্ধকার ঝাঁঝরা করে আবার মন ফকিরা ঘর
দোয়েল পাপিয়া বৌ কথা কও খোঁজে বসন্ত দুপুর

এপার ওপার বুকের ভেতর জল স্তম্ভের উচ্ছ্বাস 
উদাস শিশির কণা মুক্তা বিন্দু দুধ ধান শীষে
হেমন্ত হিমে ভালোবাসা ভোরের শীতে স্নান
উষ্ণতা ভেতরে স্পর্শ সুখ পরস্পর বেঁধেছে পরাণ
দু'পাশে দীর্ঘ সবুজ প্রাচীর সূর্য সিঁড়ি শোনে স্তব গান
দুধে ভাতে মাছে শাকে বসন্ত বরণী মুখ ডাকে আমন্ত্রণে 

আনন্দ হৃদয়ে কতনা ধ্বনিময় সুর সালংকারা 
দেহ বিনিময় জানে সাঁঝবাতি ভোরের শুকতারা
সবুজ পাখি জানে ওড়া উড়ি হাহাকার শুকনো পাতায়
রাধা প্রেম হলুদ বসন্ত বুকে আবীর কুঙ্কুমে চন্দন ঘ্রাণে


∆
ঋতু পত্রের শেষে

পাঁজরের আড়ালে শ্বাস টুকু ঘিরে আছে দেহকাণ্ড
বাইরে দেশান্তরী হাওয়া খেলে সবুজ পাতার
শরীর জুড়ে হিরন্ময় প্রেম ঢাকা বসন্ত কুয়াশায়
ধর্ম কক্ষে ছেঁড়ে জন্ম সেতু ব্যাথাতুর রক্ত বিসর্জন 
পাষাণ শরীর জানেনা নিরন্তর চলে এ ভাসান
দিনাতিপাত নেই দরজা আগলে অনন্যা সে প্রিয়তমা

জমিতে চুমু রেখে অঙ্কুর বুকে মোহন শরীর লতা
অহরহ সংসারী কথার ভেতর প্রতীক্ষার সকল উচ্চারণ 
শরীরেই বাঁচে শরীরেই মরে তবু শস্যের আমন্ত্রণ 
মন্দ্রিত সময়ে লোহিত অঙ্গীকার জাগে মন্ত্র বলে
বেঁচে থাকে সকল ভবিষ্যৎ জানে আত্মার সম্বল
অনাহুত প্রেম পত্র ভাষায় সবিনয়ে রক্ত করবী 

শরীরে মননে জড়িয়ে জন্মান্তর বৃক্ষদেবীর বাকলে
আত্মার সুরে নিরন্তর বাঁচে বাউল ঋতু পত্রের শেষে 


∆
অনন্ত প্রতিভাসে

দোলের চাঁদে রঙ লেগেছে রাতে কৃষ্ণচূড়া সোহাগ
কাঁপছিল কি কোকিল স্বরে পরাগ ওড়া বাতাস
কথার ভেতর বর্ণমালায় প্রেমের আখর আলো
অভিসারে হলুদ বসন্ত রাধাময় শরীরে আগুন মাখো

অসময় তবু রঙ মাখে মনে বনে পারিজাত পরিমলে
অফুরান কথা ফিরে ফিরে আসে মধু মাখা সঙ্গীতে
প্রতি ঘরের উঠোনে কে কার চরণে ফুলের অঞ্জলি 
বর্ষ শেষের অন্তর কথা মুক্তি স্নানে চলে রঙের অভিসারে

আমার পলাশ রাঙা চোখের দেখা বাউল বৈষ্ণবী পথ
লাল শিমূল রঙের হাসি মাখালো ঠোঁটে বাঁশির সুরে
রঙ ঢেলেছি সুখের ঘরের চেনা উঠোন জুড়ে 
হেসে উঠলো দূর্বা তখন গোলাপি রঙের ভোরে

শ্রীখোল রঙ্গে মজেছে নগর কীর্তন তোলে রসিক বোল
আহা ! শ্রীরাধা সিঁথি রাঙা দোলে কপালে রক্ত প্রবাল
কালবেলা জানে ঋতু স্রোত শেষ বসন্তে বিরহে কানু
চিত চোর জানে বন কুটিরে চন্দ্রিমা অনন্ত প্রতিভাসে

ছবি- বিপ্লব ভূঞ্যা
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••|||••|||••||•|||•••••