Sunday, 18 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৫


সংস্কৃতি বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা -

∆
আরোগ্য

রোজ লিখি না
মাঝে মাঝে লিখি

নিয়মিত বাঁচি না
কিছুদিন বাঁচি


∆
অপেক্ষা

তোমার সাথে দেখা হবে
পুরোনো বইয়ের মতো

সেখানে দাগ কাটেনি কেউ,
আজও পড়েনি ভাষা,
অসম্পূর্ণতা রেখে গেছে...

তুমি ছেড়ে যাওনি তাকে
অপেক্ষা করছ

হারিয়ে যাওয়া মানুষের
শেষ পাতা ওল্টানোর শব্দ


∆
বসন্ত

আজও শহরে
ফুল বিক্রি হয়

এখানে ভালবাসা
অবৈধ নয়...

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 15 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৪

খুকু ভূঞ্যা’র কবিতা -


∆
আমাদের জীবাশ্মগুলি

দূরে ওই মেঘের সঙ্গে আমার মিইয়ে যাবার কথা ছিল
বৃষ্টি এনে দিল মাটির কাছে
ভেবেছিলাম মাটি আমাকে শুদ্ধ করবে
জন্মের যত ক্ষতচিহ্ন সব মুছে দেবে
মাটি বিষ খেয়েছে,যেন সতীশের বউ
গজলা ওঠা বুকের ভেতর জাপটে ধরে বলছে এই নাও আমার আত্মহত্যা

ভেবেছিলাম কোঁচড় ভর্তি ঘাসের মত কোমলতা দেবে
সেই তো তুমি মৃত, আমি মৃত
আমাদের জীবাশ্মগুলি মিছিলে মিছিলে চিৎকার করছে
এবার সত্যযুগ আসবে


∆
নিস্পন্দ

পৌষের চাঁদের দিকে তাকিয়ে ভাবি আমাদের মৃত আবেগগুলি ঝরে পড়ছে নিঃশব্দে
যেন সদ্য বিধবা নারীটি সাদা কাপড় পরে তাকিয়ে আছে সর্ষে ক্ষেতের দিকে
পৃথিবীর ঘরে ঘরে শঙ্খধ্বনি মুছে গিয়ে মৃত্যুসফেদ সুর বাজছে ঝরা পাতায় ঘাসে ঘাসে

আমি কখনও চাইনি আলোর শব বুকে নিয়ে অশৌচ পালন করি
অথচ আমার স্নায়ু শিরায় গোধূলির পাণ্ডুলিপি
কারা ছায়া ওড়ায় শোক ওড়ায়
আমি মৃত জোসনার মত ক্রমে সাদা হয়ে যাই

স্বপ্নছাওয়া উঠোনে পড়ে থাকে পৌষের নিস্পন্দ অঙ্গীকার


∆
ইচ্ছের কলহ

প্রত্যাশাগুলো একা হয়ে যাচ্ছে
যতবার ভেবেছি অনেক্ষণ আজ আকাশ দেখব
হঠাৎ পাখিটি পথ হারিয়ে জানিয়ে যায় অসীমেরও দুঃখ আছে
মৃত্তিকার ওমে যে ঘাস সুবাসিত
তাকে কোলে নাও, আঁচল খোঁজে চাবির গোছা

কতদিন ভেবেছি সোনালী স্বপ্নের মত মুক্ত হব
লাশ হত্যা খুন অথবা অপরিনত বধূর নিরুচ্চার চোখে ডুবে যায় গোপনে জমানো কোজাগর
এজমালি হয়ে যায় সুখ ইচ্ছে আকাশ

সবই খোয়া যায়
সবই রয়ে যায় এই জীবনে এই শরীরের
অভিন্ন ছায়ায় ছায়ায়

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌ 
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Wednesday, 14 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৪


আশিস মাইতি’র কবিতা-


∆
সুষমা নিয়েছি শুষে


সুন্দরের থেকে চেয়ে নিতে
বসি বৃক্ষতলে, প্রান্তরের মুথা ঘাসে 
তিয়াসি নদীতীর কিংবা শিরীন সানুদেশে অপলক
শুভ্র বিভাজিকায় কখনোও চেয়ে থাকি তরল চোখে।
আদর-অনাদরে উপুড় করে দিয়েছ ভিক্ষাপাত্র
সুষমা নিয়েছি শুষে হাড়গিলে পাখিটির মতো
আমি র‍্যশনাল, রৌরব বুঝি না।
নভেম্বরের শেষ বিকেলে লাজবতী লাবণ্যকে
কাছারির নির্জন অরণ্যে সংবৃতি দিয়েছো।
লিপ্তপদ প্রাণীটির সরোবরে, নিভৃত বিশ্বাস। 
স্বর্গদ্বার সে পেছনে রেখে, সেই নির্জন রাতে
পূর্ণচন্দ্রের আকাশে সংবেদী, স্হির, সমান্তরাল
পাহাড়ের অবয়ব, আমি দেখেছি।


∆
বিষাদ

শিমুল সুতোয় বাঁধা অমোঘ বিধান।
বার বার ফিরে ফিরে আসে,তবু
বাসনা বিহ্বল নিঃশব্দে আগুন জ্বেলে
ফাগুনের সীমানা ছাড়ায়,
গাছেদের প্রান্তরেখা দিয়ে যেদিন
অবয়ব ফুটে ওঠে অসহায় পর্বতের ছায়া।
পূষনের প্রতি তোমার একমুখী প্রণয়
অলজ্জ সাহসিনী শীলাবতী, বয়ে যাও অন্তহীন…
পিঙ্গল উষ্ণীষে কুন্ঠাহীন জেগে আছে
চপল প্রেম, একবার ফিরে এসো স্মৃতির দুয়ারে;
জানি শীতের সময়, পাতা থেকে 
ঝরে পড়ে শিশিরেরা আরেক পাতায়।
তথাগত, পিপুলের নিচে স্মিত হাস্যময়!

∆
দ্যোতনা

অলীক বৈরাগে জানি একা একা লাগে,
যাওয়া আর হলো কৈ, মেঘের ওপারে?
পোড়া হাত আকুল খোঁজে কিঞ্জল আলো
নিবিড় বুৃকে লুকোনো, নিত্য যা ধক ধক বাজে। 
কাঙ্খা সংক্রামিত হলে সব সম্পর্ক কায়িক হয়।
এই ভাবে হারাই হিতৈষী, অতীত ঐশ্বর্য হিমঘুমে…
আমারও ঘুম লাগে, ক্রমে রাত নামে,
পতঙ্গের আওয়াজ শুনি ম্রিয়মান উষ্ণতার বিষাদে। 
কুমুদ পুকুরে ফড়িং হলুদ ডানা মেলে নিরন্তর,
লাল চাঁদ উঁকি দিয়ে অমোঘ দ্যোতনা আঁকে,
কাগজের সারস ভাসাও কেন, হে বিষাদময়ী!

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Tuesday, 13 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৪

দিশারী মুখোপাধ্যায় এর কবিতা -

∆
নিজেকে অপ্রিয় করে 
 
নিজেকে অপ্রিয় করে তোমাদের চোখে 
দাঁড়িয়ে রয়েছি এই অনতিদূরেই ,
বুঝে নিতে চাইছি বন্ধু কীরকম লাগে এই খেলা ।
কতটা হাতুড়ি ঠিক সহ্য হয় আমাদের সামান্য প্রেমে ,
রোষের কামারশালে কতক্ষণ টিকতে পারে প্লাস্টিক-মন।
আমার শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে বেড়াই ,
দেখতে চাই অতিষ্ট হওয়া কত দ্রুত শিখে নিতে পারো।

এত এত রঙ আছে পৃথিবীতে 
শুধুমাত্র সফেদ সাজ পছন্দ হয় না আর , 
কালোকেও একবার সাধ হয় আলিঙ্গন দিতে ।
আমার কর্কশবাক্যে নাইই যদি খুশি হও  নাইই হবে,
অখুশির বিভা লাগলে 
তোমাদের জামার প্রিন্ট কীরকম হয় , জানা হবে ।

আমি যদি একবারও বিষদাঁত ব্যবহার করি , দেখা হবে 
মৃত্যুর ঠুনকো ঘায়ে 
তোমাদের অমিয়-রূপ কতটুকু টেকে ।


∆
চলো সূর্যের সঙ্গে 
 
চলো , সূর্যের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে আসি ।
অস্থির ভেতর যত জড়তা ,দুর্বলতা ,অভিমান সঞ্চিত হয়েছে ;
তার কাছে বিস্তারিত বলি সেইসব।

কতদূর যাওয়ার কথা ছিল আমাদের এই মানুষ-জীবনে,
কতটুকু যাওয়া হল,
বাকি রয়ে গেল আরও কত বেশি ,
সেইসব নিয়ে সফেন আত্মস্মৃতি লিখে লাভ নেই।
চলো, তাকে সব খুলে বলি।

সর্বাঙ্গ দিয়ে যদি তাকে করি আলিঙ্গন ,
সে তার উষ্ণতা দিয়ে আমাদের সব অপারগতা 
ছাই করে দেবে ।
আর কোনো যন্ত্রণা, কোনো অনটন 
আমাদের ভাঁড়ারের বাড়ন্ত সামর্থ্য নিয়ে 
ব্যঙ্গ করতে সাহস পাবে না।

চলো, সূর্য-সঙ্গমে কিছু রতি 
যথাযথ ব্যবহার করি।


∆
ওহে নিশ্চয়তা ,আর কতদূরে 

ওহে নিশ্চয়তা , আর কতদূরে তুমি ঘাপটি মেরে আছ ?
পৃথিবীর সব পথ হাঁটতে হাঁটতে শেষ হয়ে এল ,
ঠিকানা কি কোনোদিন পরিচিত হবে না আমার সঙ্গে 
এ জীবনে ? 

মধ্যাহ্নে ছাদের কার্নিশে বসে 
বিজাতীয় পরিচয়হীন দুটো পাখি 
পরস্পরের কথা নিজ নিজ বোধ দিয়ে বুঝে নিচ্ছে ঠিক ,
তাদের তো ধরা দাও তুমি সহজেই আপন গরজে।

ভাষা দিয়ে তৈরি হয় আমাদের যত ভালোবাসা ,
ভাষার অভাবে তারা মারা যায় ইতিহাস জুড়ে ।
এই নিয়তির অন্য কোনো অন্যথা হবে কি কখনো ,
নিশ্চিত বাড়ির খোঁজ আসবে কি আমাদের কাছে? 


∆
তোমার সমস্ত কথা  

তোমার সমস্ত কথা হানা দেয় আমার বাড়িতে ,
আমার উঠোনে যত গাঁদা কসমস - এই শীতে ,
তাদের পাপড়িতে লেগে থাকে ।
গরম কফির ছোঁয়া তোমার দৃষ্টি ছুঁয়ে ফিরে আসে বলে 
আমার হরমোন-তন্ত্র রম্য হয়ে ওঠে । 
এই কথা জানা হয়ে গেছে বলে 
অতিরিক্ত দেমাক দিয়ে নিজেকে অমিল করতে চাও।
তোমার কথারা কিন্তু ,যা যা তুমি বলেছিলে একসময় ,
জলের বিন্দুর মতো ভেসে ভেসে ফিরছে হাওয়ায় ;
তারা ওই দেমাকের কথা ভেবে নিরস্ত হয় না কখনও।

তোমার সমস্ত ঘ্রাণ লেবুর পাতার দেহে 
যেন ক্ষীর , নাচে কাফি-স্বর হয়ে ।
তোমার সমস্ত ছায়া 
উজ্জ্বল আলোয় ভরে থাকে ।


∆
জানি এটা বিষ 

জানি এটা বিষ ,
মুখে নিলে মৃত্যু অনিবার্য।
তবুও, সামান্য মৃত্যুর ভয়ে 
বিষের মোহিনী-রূপ ,
মধু-স্বাদ 
অস্বীকার করতে পারি না ।

জানি ঢি-ঢি হতে পারে ,
সমাজে ,সভায় 
পদচ্যুতি হতে পারে 
সংসারের দাক্ষিণ্য প্রাপ্তি থেকে ,
তবুও গহ্বরে ঝাঁপ 
না দিয়ে পারি না ।

জানি ওটা শব্দভেদী ,
বুকে এসে বেঁধে ।
তবুও জলের সঙ্গে মিলনের কালে 
শীৎকারের শিল্পরূপ 
না এঁকে পারি না ।

ছবি- মেহবুব গায়েন
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Saturday, 10 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


দেবার্ঘ‌ সেন এর কবিতা -

∆
অসম্পৃক্ত 

দুটো মানুষের ছায়া মিশে যাচ্ছে, 
আলো যেন পাউডারের মত 
ছড়াচ্ছে মৃদু দূষণ—
চারপাশে বন্ধ্যা বাতাস
প্রজাপতিরা রঙ মাখছে সাদাকালো। 

মনকে কেন্দ্র করে, ঘুরে চলেছে গ্রহেরা—
কক্ষপথ মাড়ালেই টের পাবে তরঙ্গের, 
তোমার চোখে কাঁদানে গ্যাস এসে 
মর্মান্তিক হতে চাইবে সময়।

অথচ তোমার হাতের সমস্ত রেখাই তো
চেয়ে চেয়ে থাকা বৃষ্টির-কাল।
যেমন দুটো মানুষের ছায়া মিশে যাচ্ছে 
তবু মানুষ দুটো মিশতে পারছে না কিছুতেই।

∆
ব্যাপন

অবজ্ঞার মতো এক দূরে ঠেলে দেবার প্রক্রিয়া থেকে, 
নিজেকে ঢেকেছি অন্ধকারে—
এ অন্ধকার দেশলাই বাক্সের ভেতরে থাকা অমিয় আড়াল।
প্রক্রিয়া যতই নিষ্ঠুর হোক, বিস্মিত হই না আর। 
যতভাবে ভাঙার থাকে বা থেকে থাকে ভাঙার
তার থেকেও মিহি এ যাপন থরে থরে বারুদমাখা। 
তোমাকে বলতে পারার মতো কোনও কথাই আর নেই, 
নেই কোনও বায়ু ধোয়া জল।
বিশ্বাসের বিষে বিষে জুড়ে থাকা নশ্বর ভাইরাস 
সাজিয়ে তুলি আলমারিতে। 
একদিন আলমারির পেট থেকে 
গ্যাস অম্বলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়বে চারিদিক।

∆
রাঙামাটি মিথ

মন বড়ো ছোট বলে কিছু হয় না, 
যা হয় তা সবটাই বড়ো। 

জন্ম থেকে কোলাহল আর কাঁচে 
পা কেটে যায়
পা কাটতে কাটতে, 
ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস প্রগাঢ় হয় এমন 
যেন তা রাঙামাটি। 

রাঙামাটি, বিশ্বাস সবই কিন্তু মিথ
মন বলে যে বস্তু নিয়ে নাড়াচাড়া এতো
সে আসলে মিথেরই পক্ষপাত

কোলাহল অথবা কাঁচ থেকে 
জন্মের পা কেটে যায়, কাটতে কাটতে তখন
মন দিয়ে মনকে দেখি—

কখনও তা রক্তশূন্য 
কখনও বা রক্তিম।

অলংকরণ - নিশিপদ্য‌
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Friday, 9 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়‌ এর কবিতা -

∆
লুকোচুরি 

ক্রমশ রাত গভীর হলে অন্ধকারে আমাদের আজন্মের লুকোচুরি শুরু হয় 
মিউট করা টেলিভিশনে আলোও তখন ম্লান হয়ে আসে আজব সে চু কিত কিত ,কবাডি কবাডি খেলা
ছোটাছুটির মাঝে এক সময় ললিতা বিশাখা হাতের মুঠোয় উঠে আসে, ধরা দেয় ঊর্বশীর নগ্ন শরীর 
মোহ ময় লাস্যে যেন মোম ,যেন কস্তুরী মৃগ
দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণের মতো ঝুনে খামচে অদ্ভুত সব হযবরল. ..দাঁত বসিয়ে দেওয়া. ..ঠোঁট থেকে ঝরতে থাকা রক্তের লালা , ,নোনাস্বাদ চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে তবু কেউ কাউকে দেখতে পাই না. ..
সংঘাতজটিল পিঠ থেকে ক্রমশ নেমে আসা পার্বত্যভূমি কেঁদে কঁকিয়ে ওঠে, কবিরা শুদ্ধাচারে
যাকে বলে জঙ্ঘা,যেন প্রতি অঙ্গ কাঁদে রতি মহারণে
পা থেকে মাথার চুল অব্দি নিঃশ্বাস উদ্গীরণে
অধীর হয়ে ওঠে যেন মুহূর্মুহূ কেঁপে ওঠে সসাগরা 
মেদিনী, রেকটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা সবিশেষ 
পূর্ণতা পা য় ,সেও যেন বলতে চায় ,আর নয় আর নয় স্বর্গ মর্ত্য পাতাল যে ধ্বংস হয়ে যায় ......


∆
জোৎস্নার ভাষা

আমি কিছু বলার আগেই সে আমার দিকে বাড়িয়ে দেয় হাত,আমি কি এই হাত স্পর্শ করবো,টেনে নেব বুকে. ..? জানিনা সমস্ত কথায় আজ কথার কথা হয়ে ধরা দিচ্ছে মথুরার হাটে
ক্রমশ তোমার ছায়া দেখা যায় 
শহরজুড়ে মেঘ জমে ,বৃষ্টি পড়ে 
সুয়োরাণি দুয়োরাণি আমাকে দেখায় ...
কী যেন মায়া তার শরীরে, ফেলে যায় গতিপথ সবুজ
ঘাস ও সোনালী ধানে ,গোপন কথার মতো 
মিলনের আনন্দ স্বপ্নের কাজল এমনকি পার্বতী ও পরমেশ্বরের অলৌকিক ষড়যন্ত্রে চিকচিক করছে তখন ভালবাসার শালগ্রাম শিলা 
কিন্তু কোনও ছবিই আজ স্পষ্ট নয় ,মনে হয় 
প্রেম ভালবাসা আঁকতে আঁকতে ঘৃণা ঈর্ষাকাতর 
ক্রোধ ঢেউ গুনতে গুনতে রাত্রি কাবার হচ্ছে শুধু 

ভাবছি, অন্ধকারের আলো আর জ্যোৎস্নার ভাষা তাকে ঠিক শিখিয়েই ছাড়ব, তবে অবশ্য শেষপর্যন্ত 
সে হাত সরিয়ে নেবে কীনা জানিনা ......

 
∆
দৃষ্টির বদলে হাসি

দৃষ্টির বদলে হাসি তুমি শিখিয়েছিলে,অক্ষরে অক্ষরে 
আমি সারাজীবন তা পালন করে গেছি 
এখন বিভ্রমের অনুশীলন না অনুশীলনের বিভ্রম ,
অন্ধকারের বেদনা না বেদনার অন্ধকার জানিনা
আন্দোলনের যন্ত্রণা না যন্ত্রণার আন্দোলন প্রতিদিন 
প্রতিমুহূর্তে আমাকে তিষ্টোতে দিচ্ছে না
কুরে কুরে খায় যা আমার না কিংবা ছিলনা কখনো 
তাকে ছোঁয়ার প্রবণতা কি ঠিক ? 
ভাগ আর বাটোয়ারা কি এখনো সমার্থক শব্দ অভিধানে ,আগুনের সঙ্গে ঘিয়ের তুলনা করতে গিয়ে আমি অন্ধ হয়ে গেছি অথচ ঋতুভেদে বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বজ্রপাতে প্রলয়তো বন্ধ হয় নি. ....


ঘুড়ির সঙ্গে সুতো আর সুতোর সঙ্গে ঘুড়ি 
যেভাবে লেপ্টে থাকে সুখের সময় দুঃখ 
আর শান্তির মধ্যে অশান্তি ঠিক সেইভাবে আমার জীবনে লেপ্টে আছে মানুষ কেন অহংকারী 
জল কেন নিম্নগামী ,পোষা কুকুর কামড়ানোর আগে 
কেন মালিকের মুখের রেখায় একবার তাকায় 
বিস্ময় , এসব তুমি শেখাওনি কেন আগে 
তাহলে বুঝতে পারতাম খাম থেকে গোলাপি চিঠি বের করার আগে কোনো উড়ানের স্বপ্ন দেখতে নেই...



ছবি - মেহবুব গায়েন
•••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••

Thursday, 8 February 2024

কবিতা

বসন্ত বৈষ্ণবী পর্ব-৩


সুশান্ত সেন এর কবিতা -

∆
তুমি

তুমি ব্যাকরণ আমি জ্যামিতি
এই রকম একটা খেলা খেলতে বসে
আকাশের রামধনু ওঠা দেখছিলাম।

স্কটল্যান্ডে'র আকাশ থম মেরে থাকার পর
ভেলকি দেখাচ্ছিল।
এদিকে দ্রুতগতি মোটর গাড়ী তার নিশানায়
রেখে দিয়েছিল বরফ রাজ্যের রোপওয়ে।

রামধনু যখন বুঝতে পারলো
গাড়িটা থামবে না তখন সে 
তার শাড়ির আঁচল খুলে
গুড়ো গুড়ো করে সাতটা রং
বাতাসে মিশিয়ে দিলো।

পথিক বুভুক্ষু শুধু চেয়ে থাকলো।


∆
কবিতা
             
একটা কবিতা লেখা হলো কি হলো না তাতে
কিবা যায় আসে।
কবির মনে ত সে রচিত হয়েছিল
সেই তার তৃপ্তি সেই তার আনন্দ।
কবিতা সেই আনন্দের কথা ভেবে
পাশের চায়ের দোকানে চা খেতে বসে
যখন উথাল পাথাল মন,
তখন কবি বললেন - এখানে নয়
চলো বিশু'দার দোকান থেকে
টোস্ট ওমলেট খেয়ে আসি।

কবি ও কবিতা পাশাপাশি হাঁটছে ।


∆
পুরোহিত
                   
আকাশের থেকে একটা তারা নেমে এলো
ইনকা পুরোহিত সেই ঘটনা
অলৌকিক বলে প্রচার করলেন
আর ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য
পুজোয় বসলেন।

প্রধান বিরোধী কে জোর করে বন্দী করে
হাত পা বেঁধে
সর্প - মুখী দেবতার সামনে উৎসর্গ করে
তিনশ ফুট উঁচু মন্দিরের চাতাল থেকে ফেলে
দেবার হুকুম করার সময়
এতটুকু তার গলা কাপল না।

পাশ্চাত্য ইতিহাস রচনাকারী 
দক্ষিণ আমেরিকার সভ্যতাকে
রক্ত পিপাসু বলে রটনা করলেন।

কারো কিছু এসে গেল না। ইতিহাস আর কতজনে পড়ে !

আকাশ থেকে আর একটা তারা খসে পড়লো।


ছবি- মেহবুব গায়েন
••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••••