Friday, 23 April 2021

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৬

সুকৃতি কবিতা-





১.

∆ বিকার ∆



১।

একটি সকালবেলা সুঁচের মাথায়

গেঁথে থাকে সহজ গমনে।

দানের সহজ ভাষা ভ্রমে

করেছে চতুরমুখী তাই।


হরি আসে হরি যায়, আমাকে ধরে না।

আমিও অক্ষম হাতহীন…

ছেড়ে দিয়ে অনাবিল আনন্দ কুড়াই।


২।

চাকার উপরে কাটে অর্ধেক জীবন

বাকিটা চাকার তলে কেটে কেটে যায়।

দাগের চাদর সরে গেলে

কথা বলে মরণের গান।


বহুমুখী শ্রমিকের মতো দাম ওঠে

আকাশে তখন তবু প্রেমের বাজারে

অপবাদ জোনাকির আলোর মতন

জ্বলে শুধু পেছনের ঘরে।


জারে জারে দ্রবীভূত মুখ

কখনও অ‍্যাসিড আর কখনও ক্ষারের

রসে চাপে লিটমাস হয়ে আছি প্রায়।


রোগ ভোগ পাশ দিয়ে ঘোরে

আমাকে অচ্ছুৎ ভেবে হয়তো ছোঁয় না।


তবু আমি বেঁচে আছি অনাবিল প্রেমের বিকারে।



 



২.

∆ জরাসন্ধ ∆



আমার মাথায় আর কিছু আসছে না। 

ঢিলেঢালা সুতোর কৌটায়

কোথায় লুকিয়ে আছে সুঁই!

ভাঙা ব্লেড থাকতেও পারে।


আমি তবু সেলাইয়ের নামে

ভেবেছি নিয়তি দুই টুকরো আপেলে।

আসলে বাঁধতে গিয়ে নিচে

জরাসন্ধ হয়ে গেছি তার।


এইবার পর্যাপ্ত ভীমের কাছে 

একদিন মুছে যেতে হবে সেও জানি।

কৃষ্ণেরও বাঁশি যাবে থেমে।


এখন আসনে রাখা দেবী 

আমার প্রেমিকা।

মননে বসান দেবী বৌয়ের সতীন।




৩.

∆ ক্ষত ∆



গোয়েন্দা প্রবণ মন বেশি সৎ হয়ে গেলে 

কথা বলে ঘরের বেড়াল।

তাকে বেশি না তোলাই ভালো।


হয়তো তখন কোনও অদৃশ‍্য কুকুর টের পায়

নিজেরই শরীর থেকে ক্ষত পচা ঘ্রাণ।

হৃদয় আহত হয়, তবু বেঁচে থাকা 

যেন এক সই দুটো পায়ের উপরে।

চোখের ভিতরে মহাভিনিষ্ক্রমণ।


অগুন্তি পথের শেষে ঠিক একজন

আয়না চিবিয়ে এসে সামনে দাঁড়ায়।


আমরা আসলে তো সময় নষ্ট করার জন‍্যই 

কবিতা লিখছি, মনে হয়

অপেক্ষার নামে রেখে যাচ্ছি কাটা দাগ 

লুকোনো শরীরে।




৪.

∆ কুকথা ∆



কার কাছে ধরা দেব? কার কাছ থেকে যাব ছিঁড়ে!

হরিণের মধ‍্যাহ্ন ভোজন 

বেরসিক নদীর ওপারে গেলে থেমে

এই পার ভাবের ভবন।

কচি কচি পাতার বয়ানে

লেগে কুয়াশার যোনি চেরা আলো

ভাষা আরও প্রবল হয়েছে।


গাল বেয়ে নেমে আসা অশ্রু সকল

হঠাৎ থমকে গেলে ফুঁয়ে

রোদনের জ্বালা নিয়ে দেহে

তবুও থমকে থাকে মোম।


কার রিং কার আঙুলে গড়ায় জানে

বুকের পাথর।

ধীরে ধীরে সব রং ক্ষয়ে যায়,

সব হাসি মুছে যায় গাঢ় সাদা একটি টেবিলে।


আমাকে ছাড়ে না নীল আলো, লাল আলো!

ক্ষণে ক্ষণে চাকার ঘর্ষণে

দূরত্ব মুছতে গিয়ে শেষে

সব ব‍্যাস ছোটো হয়ে গেছে কুকথায়।




৫.
∆ শোয়া ∆



কিছুটা অপূর্ণ থাকা ভালো।

সব পাওয়া হয়ে গেলে কিছুই থাকে না।


দ্রোহের নিরীখে অক্ষরেখা 

বেমানান হয়ে যায় দ্রাঘিমা শুলেই।


আমাকেও মনে হয় শুয়ে আছি

তোমাকেও শুয়ে আছো মনে হয়


গাছ পাখি আকাশ তারারা

সবাই পড়েছে পাশে শুয়ে


এমনই অনন্ত সব শোয়া

কেউ কারো ধারে কাছে নেই।






ছবি- অতীশ কুণ্ডু

০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৬

মিজান হাওলাদার এর কবিতা-





১.

∆ একটু সুগন্ধের অন্বেষণ ∆



দুঃখের মুখোশ পরা যাযাবর শহর!

তোমার ধূলোর ধূসর গলিতে আহত হয়ে-

দূর বহু-দূর পথে ঘুরেছি।


পদতলে প্রাসাদের মত দুঃখ

একটু সুগন্ধের অন্বেষণে 

রসহীন পাথরের ভেতর আটকে যাচ্ছি

তোমার বাইরে ভেতরে যাওয়া আসা করে মরণ।


অনিশ্চিত আমি 

উঠে যাচ্ছি আলোর জঙ্গল থেকে

নিজেকে নিজের থেকে অত্যাচারে

উঠে যাচ্ছি দালচিনি রঙের গম্বুজগুলো থেকে

থমকে থাকা মানুষের ভীড় থেকে

ধারাবাহিক অনন্তের ভেতর।


স্মৃতিতে আগুন জ্বলে, দীর্ঘকাল

একটু সুগন্ধের অন্বেষণ

না পেলে কোনো অভিযোগ নেই;   

যদি পেয়ে যাই তা যেন আমাকে আনন্দ দেয়।





২.

∆ জাদু শব্দ ∆



  আমার মগজ বেয়ে শব্দ নামছে


সুখ 


     দুঃখ 


           হাসি


                 আনন্দ 


                        এমন রঙ বেরঙের নানান শব্দ


কিছু শব্দের হাতে হাত রেখে মাইল মাইল পথ  পেড়িয়ে বন্ধুত্বের বুনিয়াদ গড়ি—

কিছু শব্দের সাথে এলোমেলো বন বনান্তর উঁচুনীচু সরলবর্গীয় পথে পথে হেঁটে আমার দিক বেঁকে যায় দিকভ্রান্তপুর

   

আমার মগজ বেয়ে শব্দ নামছে

সাহসী 

        নমনীয়

                ভীরু 

                   এমন নানান শব্দের সাথে

তাল মিলিয়ে পাশাপাশি বাজি—

আমাকে শব্দে শব্দে বাজায়; তবুও শব্দের কাছাকাছি আরও একটু ঘন হয়ে বসি —


  আমার মগজ বেয়ে শব্দ নামছে—


     আগুন 


           পানি 


              হাওয়া


এমন নানান শব্দেরও আছে যৌনতা বোধ

তাঁরা লজ্জা পেয়ে উলঙ্গ হয়ে আমার সামনে- কাঁপতে থাকে

এসব না দেখার ভান করে

তুমি নামক জাদু শব্দ নিঃশ্বাসে চেপে জীবন গড়াগড়ি




৩.

∆ যা খুঁজে বেড়াচ্ছি ∆

 


বাতাসের হাড়মজ্জার ভেতর যেন ভাসমান  

স্বপ্ন আর মিঠে ভাবনাগুলি

পিছনে পবিত্র আগুন ঘাতকের তাড়া

অনন্তের উপর খোলাখুলি ভালোবাসা আমার। 


শোকগ্রস্ত মোমের পুতুল কাঁদতে কাঁদতে

ভেসে যায় মঙ্গলকলস

জমাটবাধাঁ সময়ে দুঃখ জিভ বাড়িয়ে দিয়েছে  

আগুনমোরগ গান গাইছে 

দীর্ঘশ্বাস, দীর্ঘশ্বাস

নীল স্তব্ধতার মাঝে খোলাখুলি ভালোবাসা আমার। 


হাহাকারে একটানা কেঁদে যায়,

কেঁদে যায় মোমের পুতুল

স্বপ্ন দেখার অত্যাচার থেকে 

বাঁচাও, আমাকে বাঁচাও

আর্তনাদ, আর্তনাদ

এক ফোঁটা অতল জলের মধ্যে খুঁজে যায়

খোলাখুলি ভালোবাসা আমার। 




৪.

∆ শপথ ∆ 



যখন বৃষ্টির মতো চোখের জল ঝরে

সেরে নিই জীবনের শুদ্ধতম স্নান।


এই ঈশ্বরহীন সময়ের কথা

আমি কাউকেই বলব না

সেকালের গোপন শপথ।




৫.

∆ পথিক ∆



তুমি কান্না নদীর তীরে

আনন্দকে খুঁজে বেড়াও রোজ

সে অজানা উৎসবে

কেউ রাখেনা বিষন্নতার খোঁজ।




ছবি- অতীশ কুণ্ডু

০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০




কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৬

মৌপর্ণা মুখার্জ্জী’র কবিতা-




১.
∆ নক্ষত্রবনে ∆


উত্তাপে পুড়তে পুড়তে দিনযাপন
আরেকটিবার বৃষ্টি হলে
ভিজবে গাছ,মন,শরীর
নক্ষত্রবনে একটু জায়গা রেখো
কে জানে কখন স্বর্গারোহন পর্ব এসে পড়ে।



২.
∆ রঙবাহারী ∆



ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে রঙ
কখন হবে রামধনু।
ওই দ্যাখো মাছরাঙা,সবুজ টিয়াপাখি
অথবা কাঠশালিখের রঙ।

সব রঙের সঙ্গম হলে
জন্ম নেবে  নতুন পাখি,আকাশ,অবকাশ।




৩.
∆ অন্ধকারে ∆




শিখা নিভে গেলে
পোড়া সলতের কালিতে লিখি নাম।
কালো অক্ষরগুলো অন্ধকারে ফেরিওয়ালা।
যে ঘাটে নৌকো থামবে সই
সেখানেই পায়ে বাঁধা নোঙর।
শিকড়ের কাজ শেষ হলে
গাছেরও হাত পা গজায়।
আঙুল আটকে কাঁথা বোনা সুতোয়।
নকশা তুলতে গিয়ে
ছুঁচ টাই বেঁকে গেছে।



৪.
∆ অবশেষে ∆



উপবাসী চাঁদ ও কুমুদিনী
বিনিদ্র রাত,পাঁজরে জমে শিশির।
তিমির ফুরোলে
প্রেম প্রস্ফুটিত হয়,
প্রকৃতি গান গায়।
সহস্র দহনের মাঝেও
একটি স্নিগধ ভোরের আশায়।




৫.
∆  দিনযাপন ∆



কেটেছে নক্ষত্ররাতগুলি
এখন অনন্তদিন
কচুপাতার উপর জমেছে বিন্দুজল।

সমুদ্র চাই নি
একটা নদী চেয়েছিলাম
আর নলখাগড়ার বন।

উঠোনজুড়ে প্রজাপতি
বাকরুদ্ধ আমি।

জানো মাধবীলতা 
ভগ্নাংশ থেকে
ভগ্নাংশ হয়ে যাচ্ছি।

ফুরব না কিছুতেই।

একদিন আতসকাঁচ নিয়ে দেখো
তিতির মুনিয়াদের সাথে বেঁচে আছি।




ছবি- অতীশ কুণ্ডু

০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৬

রাজদীপ সেন চৌধুরী’র কবিতা-





১.

∆ কল্পনার জন্যে ∆

 

এভাবে নিঙড়নো অন্তঃসারশূন্য মস্তিষ্কটা অসাড় থাকবে কতকাল

কি জানি। প্রতিরাতে বাঁশবন হাতছানি দিয়ে ডাকে; জ্যোৎস্নার চাঁদ

উজাড় করে দেওয়া স্তনের আলোয় ভিজিয়ে দেয় চোখ-মুখ সর্বাঙ্গ।

আমি কল্পনার পায়ে ফুল দিই, মাথা রেখে শুই। অপেক্ষা করি-

যদি শেষ রাতে তুমি ছায়াপথে জোনাকির বেশে এসে মস্তিষ্ক প্রজ্বলিত করো।   

 

 

২.

∆ বন্ধুযোগ ∆

 

আমাদের ! এ প্রজন্মের মতো চারদেওয়ালে বন্ধুযোগ ? বরং

ইতিউতি ঝোপঝাড় পেরিয়ে ভোরের হলুদ আলো ছুঁইছুঁই করত গাছের মাথা,

জটাধারী কোন সন্ন্যাসীর মত ধ্যানরতা বট আশ্রয় দিত। সারাদিন ছিপে জড়ো হত

অজস্র রুই,তেলাপিয়ার দল।

বিড়ির ধোঁয়া আর সে ভাজামাছের স্বাদ আজও ফুসফুসে এবং উদরস্ত জমাট বেঁধে আছে

কৈবাল্যে , গাছে .....হয়ত বা !

 

 


৩.

∆ বারানসী ∆

 

অসির দিকে গড়ানো স্রোতে জোয়ারের খেলা। একফালি চাঁদের মত নৌকোর খোলে চেপে

রাতের গঙ্গা হীরের সাজে মোহময়ী ; পাশে বসা বিসমিল্লাহ্‌র ঠোঁটে তখন বিলম্বিত মালকোশ।

মন্দ্র থেকে গাঢ় তারপর অতিমন্দ্রকে চলে যাবার সন্ধিক্ষণে রাত পেরিয়ে মণিকর্ণিকার উষ্ণতা

পুনর্জন্ম দিলো ; চতুর্দিকে বরুণের লাল আভা।





ছবি- মেহবুব গায়েন


০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৬

মনোজ পাইন এর কবিতা-





১.
∆ সওদাগর ∆



শেষমেশ প্রশ্ন কর নিজের কাছে।
তোমার ভেতরে বর্ষার 
যে উৎফুল্ল মেঘমালার আবাস ছিল,
যে নদী বইছিল দুকূল ছাপিয়ে 
তারা কী সব আগের মতোই আছে?

নদী কী ভাঙেনি তার দুকূল? 
বর্ষণ ক্লান্ত হয়নি তো মেঘমালা?

সবার আগে নিজের কাছেই 
রাখতে হয় গভীর জিজ্ঞাসা।

আমি জানি সব প্রশ্নের এক
অনিবার্য উত্তর। তুমি আর 
তোমার মতো নেই!
আর আমার  ভেতরে
বাস করে এক আদিম সওদাগর। 




২.
∆ শব্দ রঙের নৌকা ∆


দুপুর গড়িয়ে পড়ছে বিকেলের দিকে।
ছায়া রঙগুলি, সব মায়া শেষ করে 
দাঁড়িয়েছে যেখানে 


সেখানে অশত্থ তলার ঘাটে বাঁধা আছে 
বয়সে পরিপক্ক এক নৌকো।

নৌকাটি হাওয়ায় হাওয়ায় ক্রমশ দুলে দুলে উঠছে!
হঠাৎই কবি খেয়ল করলেন 
নৌকায় হাজারো রঙের বর্ণমালা আর শব্দ ! 

এত রঙ কে দিল? 
কোথা থেকে এল এত শব্দ? 
শব্দগুলো এত রঙিন হয় কীভাবে? 

কেন মাঝিহীণ রঙের নৌকাটি
বাঁধা এক নির্জন ঘাটে?

চমকে চমক ভাঙে, দেখি এক বাউল গান গায়,
"কে যাবি নিয়ে যা আমায় শব্দ রঙের নৌকায়"




৩.
∆ প্রেমিক জন্ম ∆



আমি তো কান্নার কাছে বসিনি কখনো!
বিষাদসিন্ধুক কবেই ছুড়ে দিয়েছি,
নাথারথলির বড় বিলে।

সেখানে পাখি আসে প্রতিদিন।তারা ভালোবাসে।
ওদের ভালোবাসার সুরে হৃদয় গ্যাছে ভরে।
হে পুরাতন শৌর্য, 
আমি অশোকের রাজত্বে কবেই হেঁটে পেরিয়েছি
তোমার নিশ্চন্তপুর।
অভিবাসীদের পথ কক্ষনো কোন  কালেই
ফুলের আশ্বাসে ভরা থাকে না।

আমি তো কোনদিনই চাইনি
আমার পথ নিষ্কণ্টক হোক!
হে বিষাদ,হে অনন্ত শোক
আমি চাই প্রেমেই আমার বারংবার 
নবজন্ম হোক।




৪.
∆ প্রথমবারের সেই কালো জিন্স ∆



আমার প্রথমবার কেনা কালো জিন্স,
তার ভেতরে বেশ কয়েকটা পকেট ছিল!
আমি খুচরো টাকা পয়সা জমিয়ে রাখতাম।
প্রথম প্রথম একটাকা,আধুলি সিকিপয়সা
তারপর প্রথম প্রেম পত্রটিও।
  
প্রথম প্রেম ভেস্তে গেল দ্বিতীয়, 
প্রেমিক হৃদয় কখনোই প্রেমের পথ ছাড়ে না।
তবে তৃতীয়টি আসার আগেই 
জিন্সটাই গেল ছিড়ে!

এখনো কালো জিন্স কিনি, 
তবে এখন 
খুচরো পয়সার বদলে ডলার জমাই
আর কালো জিন্সের জন্য
জমিয়ে রাখি এক আকাশ মনখারাপ। 






৫.
∆ ঈশ্বরকে চিঠি ∆



মেঘপ্রদেশে শোয়ানো রয়েছে ডাকবাক্স
সেখানে ইশ্বরকে চিঠি লিখল একজন।

নিচে তখন একদল পতাকাবাহী লোক
ধর্মের গান গাইতে গাইতে
বিভাজনের শ্লোগান দিতে দিতে হেঁটে যাচ্ছে 
রাজভবনের দিকে।

সিণ্ডিকেটের ইন্ধনে মিছিল করলো অনেকেই! 

ঈশ্বরকে চিঠি লেখা ছেলেটি তারপর থেকে
প্রতিদিন একটি চাকুরীর স্বপ্ন দেখে।







ছবি- মেহবুব গায়েন
০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

Monday, 12 April 2021

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৫

পাপড়ি দাস সরকার এর কবিতা-





১.

∆ ফসিল ∆



এখন জানালার ধারে দাঁড়ালে 

চোখে পড়ে প্রাচীন বটের শেষে শবহীন নদী,

পরিযায়ী হাওয়া ব্যস্ত কোলাহল সহসা 

শুনশান ঢুকে পড়ে চার্ণকের বিষন্ন বাগানে।

এখন কলকাতার নিঃসঙ্গ নির্জনপ্রাসাদ 

কক্ষজুড়ে দরবারী গান মায়াবী মোহ,

উৎখননে উল্লসিত প্রাচীন পিতামহ 

স্মৃতির অনিবার্য অনুবাদ অন্তরে বাহিরে।

এখন ছায়ারা দীর্ঘতর হলে 

কলকাতার পাঁজর ভাঙে অনন্ত শোকে 

বিহ্বল ঠোঁটে তার চুম্বনের ভাষা 

কিভাবে বেঁচে আছ মর্মাহত তুমি সময় ?



২.

∆ সময়ানুসারে ∆



পঙ্গপালেরা এসেছে সবুজ থাকবেনা আর 

পঙ্গপাল এসেছে শস্য বাঁচবে না আর 

কারখানার গেটের আশেপাশে 

      পঙ্গপালের ভিড় 

অদৃশ্য বন্ধনে ছিল তীব্র শুষ্কতা 

তারপর পঙ্গপালের দল খুললো নিজেদের 

সমস্ত বন জুড়ে পঙ্গপালের দঙ্গল

সারাদিন ধরে সবুজের দিকে চললো নীল খিদে....

শুকনো আকন্দ বন-মড়কের তার পিছু আমরা সবাই 

কারখানার রুগ্ন ঢালে শুয়ে আছে

শতাব্দীর ঝরে পড়া

উদাস শ্রমিক!



৩.

∆ দিনলিপি ∆


 

আজ কৃষ্ণ গহ্বর থেকে তুলে আনি তবে 

সৃজনের পথরেখা, পাখিদের কুহু 

যেন জলদবংশীয় আস্য।তবে হু হু 

পাথর ঠুকে কেন জ্বালতে পারিনা ক্ষুধা-ক্ষুরধার!

 

মগজে ভাসমান সুড়ঙ্গ পথ 

হিংসার অনল তাকে কাছে আনে

এই নদী, যাকে প্রবাহ বলো, হলুদ স্নানে 

কৃষ্ণ গহ্বর ডেকে আনে, জন্ম নেই যার 

 

মৃত্যুশোকে বিহ্বল গান, দেখো,আজ

ডেকে আনে তাকে 

জ্যোতি চিহ্নহীন এক অপার অসীম নির্জনে।

 



 ৪.

∆ শ্রাবনী ∆


 

বিচ্ছিন্ন নিশীথ জুড়ে বিশ্ববেদনা

 স্রোত স্পর্শ করে যায়,

অনন্ত জলের শব্দে রাত্রিটিকে দুভাগ করি,

এক ডালে ধারাবাহী সংসারের জল।

অঝোর বৃষ্টিতে গেট খুলে দিলে ছুঁতে আসে            

                পাঁচলক্ষ কিউসেক জল,

গান আর কান্না মিশে পল্লবে পল্লবে ডাকে 

আকাশের সজল আদেশ

পর্যটক জলধারা ঘুরে হাওয়ায় মেতে ওঠে 

গগন কোথাও নেই পৃথিবী কোথাও নেই শুধুমাত্র অকুল 

                 সিন্ধুর বার্তা আসে 

ঘুম তো আসে না, উঠি স্টোভ জ্বেলে কেটলি চাপাই

  সম্পন্ন স্রোতে আত্মানুসন্ধান ভালো

  আরো জল টগবগে জলের শব্দ 

কানভর্তি উষ্ণতা 

ফুটপাথ জুড়ে চট আর পলিথিন জড়ানো কাহিনী।

 

 


৫.

∆ ক্রমানুসারে ∆

 

 

রীতিরূপে বিকশিত স্বাভাবিক ফুল মাছ সেগুন 

এমনকি মানুষও 

রূপ সাধনার দিকে 

সারি সারি পিঁপড়ের দল ডিম মুখে শৃঙ্খলায় বিবর সন্ধানী 

ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নেয় আর সুখ ছিদ্রের সমতায়  

চোখের আড়াল থেকে ঘূণ পোকারা 

কথা বলে ফিসফাস 

একি স্বভাব নাকি শীলিত অভ্যাস

অভ্যাসেই নিত্যকাল মজে যায়

জিন,ক্রোমোজোমের দায়বদ্ধতায় তৈরী হয় বলয় 

তাই রোজ বীজে তার প্রাপ্য জল ঢালি

দশটি আঙ্গুলও ব্যস্ত হয় পরে সৌজন্যতা বশত

কনিষ্ঠা মধ্যমা তর্জনী পড়ে থাকে নত নিঃশব্দ শাসনে।

   


ছবি- মেহবুব গায়েন


০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০

কবিতা

রঙ নৌকার ঢেউ-৫

প্রতাপ হালদার এর কবিতা-





১.

∆ এইসব সাধ ∆

 

কতকাল মানুষ হয়ে আছি!   

জাঙাল পেরিয়ে ভাবি আমার ঠোঁটও কুটোকাটা নিয়ে নীড়ের ওম চেয়েছে

ভাবি বেরেলা ফল হব

জুয়েল পোকার গায়ে রোদ্দুর

কোনো জীবিকা নেই, কোন রাজনীতি নেই

খেই খেই নেই


কতকাল মানুষ হয়ে রয়েছি!


একদিন,  তোমাদের  এই ধ্বংসের ভেতর থেকে  

কানশিরে ফুলের রেণু ছুঁয়ে, চুপচাপ হেঁটে আসি।

 

 

 

২.

∆ নির্দিষ্ট ∆

 

নাচের মেয়েটি রেণু রেণু দুপুরে, প্রেম বুঝি এইসব 

বারবার বেরোনোর আয়না

গানে ভরে যায় পথ, হাতে বালিজল 

দূরের আঁধারে ডেকে আনে

একটা স্তব্ধবিন্দু -

 

যেন লুকনো অভ্যাসে ঘুরে আসি মাটির কিনারা 

 

 

 

৩.

∆ আশ্রয় ∆

 


এটুকু ভাত পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করি

একটি তারা তুলসিতলায় এসে মায়ের খোঁজ নেয়

সবচেয়ে আনন্দ যেদিন ছিল তাঁতে বোনা দুপুর

কখনো কান্না অপ্রকাশ্যে থেকে যায় কাগজিফুলের চারপাশ

প্রাণ ফিরিয়ে দিচ্ছে কীভাবে যেন    

এমনই কিছু আমার গানের ধুলো গায়ে পায়ে 

আকড়ে ধরে থাকি    

 

 

৪.

∆ দাওয়াই ∆

 

নদী রাখি আমার পাশে

নির্জনতা রাখি 

ছুঁয়ে আছে শূন্যতার মধ্যে

বন আলোর আয়ু   

 

এইতো চেয়েছি আমি নেহাত পেরোবার নামে

জল ও পথের কাছে চেয়ে থাকা বাঁক 

নির্জনতা পেলে,       

সেরে যায় অসুখ

 

 

৫.

∆ রেডিও ∆

 

পাটসুতোলি বাঁধা ঠোঙা খুলে দেখা চোখ আমাদের

এ লোভ

রেডিওর কাটার মতো এসে দাঁড়ায়

 

বেজে ওঠে গান

খিদে সেরে যায়  

 

আবার কিছু বৃষ্টির মতো শব্দে দুপুর ঘিরে আসে  




 

ছবি- মেহবুব গায়েন


০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০০